‘বুকের ভিতর আগুন’ আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেঃ ফেরদৌস

প্রকাশঃ মে ১৮, ২০১৬

ঢাকাই চলচ্চিত্রের তারকা অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। ‘এক কাপ চা’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ চতুর্থবারের মতো পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। চলচ্চিত্র জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মননা প্রাপ্তিতে তার প্রতিক্রিয়া এবং বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে কথা হলো বিডিমর্নিং এর সাথে। সাক্ষাতে ছিলেন নিয়াজ শুভ-

কেমন আছেন?

ফেরদৌসঃ ভালো।

চতুর্থ বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন সে বিষয়ে…

­­­­­­ফেরদৌসঃ সত্যিই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তিটি অনেক বড় ব্যাপার। কাজের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আরো ভালো কাজ করার আগ্রহ থাকে। মনে হয় আবার নতুন কি করা যায়। কত ভালো কাজ করা যায়। দর্শকদের ভালোবাসায় ইনশাআল্লাহ্‌ ভালো কাজ করবো। সম্মাননার ব্যাপারটি এমন যত পাওয়া যায়, তত পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়। তবে সম্মানের এই জায়গাটা ধরে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আমার মনে হয় মানুষ চেষ্টা করলে পারে না এমন কিছু নেই। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো সম্মানের এই জায়গাটা অটুট রাখতে।

বর্তমান কাজের ব্যস্ততা?

ফেরদৌসঃ কিছুদিনের মধ্যে কানাডায় যাচ্ছি। সেখানে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিবো। তারই রিহার্সাল নিয়ে ব্যস্ত আছি। দেশে ফিরে বাদশার ডাবিং করবো। এ ছাড়া বেশ কিছু ছবির কাজ হাতে আছে। পাশাপাশি পরিবারকেও সময় দিচ্ছি।

আপনার প্রথম ছবি ‘বুকের ভিতর আগুন’র অভিজ্ঞতা…

ফেরদৌসঃ ছবিটি করার আগে অনেকেই না করেছিলো। শত বাঁধা পেরিয়ে কাজটা শুরু করি। আমার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ ছবিতে কাজের সুযোগ পাই। তারপর থেকে বাকি কথা সবারই জানা।

র‍্যাম্প মডেল থেকে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু কিভাবে?

ফেরদৌসঃ প্রয়াত জননন্দিত অভিনেতা সালমান শাহের আকস্মিক মৃত্যুতে তার অভিনীত অসামাপ্ত একটি ছবিতে কাজের সুযোগ পাই আমি। সেই থেকে শুরু, চলছে আজ অবধি।

বলিউড সিনেমা ‘মিট্রি’তে অনুপ্রবেশের স্মৃতি…

ফেরদৌসঃ ‘হার জিত’ ছবিতে অভিনয়ের পর সেলিম আফতাবের প্রযোজনায় বলিউডি ছবিতে ডাক পাই আমি। সবসময় নতুন আঙ্গিকে কাজ করার প্রবণতা ছিলো। বিশ্ব মিডিয়ায় নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিতেই কাজটি করা হয়েছে। কাজটি বেশ উপভোগ করেছি।

সাংবাদিকতায় পড়াশোনা করেও ফেরদৌস কেন নায়ক?

ফেরদৌসঃ সাংবাদিকতা করার কখনো কোন ইচ্ছা ছিলো না। শুধুমাত্র পড়ার জন্যই পড়েছি। অভিনয়ের প্রতি আগে থেকেই বেশ ঝোঁক ছিলো। অভিনয়টাকে আমি খুব উপভোগ করি। নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ পাই। সাংবাদিক হয়নি বলে লেখালেখি যে ভালো লাগে না সেটিও না। ভ্রমণ কাহিনী লিখতে আমার খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই ভ্রমণ কাহিনী লিখি।

কাজের ক্ষেত্রে পরিবারের সাপোর্ট…

ফেরদৌসঃ আমার কাজের ব্যাপারে পরিবার সবসময় আমার পাশে থেকেছে। প্রতিটা ক্ষেত্রে তাঁরা আমাকে সাপোর্ট দেন। পরিবারের অন্য কাজগুলো করার জন্য আমাকে কোন প্রেসার দেয়া হয় না। তাদের পক্ষে যতটা সম্ভব নিজেরাই করে নেয়।

বাবা হিসেবে ফেরদৌস কেমন?

ফেরদৌসঃ আসলে এটা তখনই বলতে পারবো যখন সন্তানদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়তে পারবো। তাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার পর নিজেকে একজন সফল বাবা মনে করতে পারবো। আমার সন্তানরা এখনো অনেক ছোট। ওদের জন্য আমার অনেক ভালোবাসা। আর যতটা পারি তাদের সময় দেয়ার চেষ্টা করি।

চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা…

ফেরদৌসঃ এখন চলচ্চিত্রের মান খুব ভালো হয়েছে। ডিজিটাল অনেক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়েছে। কাজের মানও খুব ভালো। এ ছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ৬৪ জেলায় ৬৪টি সিনেমা হল করা হবে। এটি করা হলে ঢাকাই চলচ্চিত্র অনেকটা এগিয়ে যাবে।

আগের কাজের সঙ্গে নতুন কাজের পার্থক্য…

ফেরদৌসঃ কাজটি আসলে একই আছে। শুধু কিছু আধুনিকতার ছোঁয়া যোগ হয়েছে। মূল কথা হচ্ছে আমাদের সকলের কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে হবে। যখন আমরা নিজের দেশ ও কাজকে ভালোবাসতে পারবো আমাদের জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

ফেরদৌসঃ পজেটিভ। এটি দুই দেশের জন্যই ভালো। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনধারার সঙ্গে তাদের যথেষ্ট মিল রয়েছে। আর এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ ভালো হচ্ছে। দেশীয় শিল্পীরা বাইরে গিয়ে কাজ করছে। আগে শুধু আমি কাজ করতাম এখন অনেক নতুন মুখ কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।

নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগে?

ফেরদৌসঃ ভালো। বর্তমান ছেলে-মেয়েরা বেশ বুদ্ধিসম্পন্ন। তাদের কাজের আগ্রহ আছে। ভবিষ্যতে তাদের মাধ্যমে ভালো কাজ করানো সম্ভব।

হাতে নতুন কি কি কাজ আছে?

ফেরদৌসঃ কালের পুতুল, পুত্র, পোস্ট মাস্টার, একাত্তর, শূন্য গিটার, বাদশাসহ আরো বেশ কিছু ছবির কাজ হাতে আছে।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ফেরদৌসঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

কমেন্টস