কাজের ফাঁকে সামান্য ঘুমিয়ে নিতেন পারেন

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১৩, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-
অফিসে বসে কাজ করছেন, এক ফাঁকে এসে গেল ঝিমুনি। ঢুলতে ঢুলতে কম্ম কাবার। মনের ভেতর আইঢাই‍—ইস, বালিশে মাথা দিয়ে আরাম করে একটু যতি ঘুমানো যেত! কিন্তু তা কি আর হওয়ার জো আছে? বসের কানে গেলে চাকরি নট। এমন পরিস্থিতিতে কিংকর্তব্য নিয়ে হিমশিম খেতে হয়। তাই প্রশ্নটা এসেই যায়, অফিসে কাজের সময় ঘুম পেলে কী করবেন?

কর্মক্ষেত্রে ঘুমানো নিয়ে কত কাণ্ডই না ঘটে! সেসব নিয়ে সহকর্মীরা গল্প ফাঁদেন। গল্পে একটু রং চড়ান। তারপর রসিয়ে রসিয়ে বলে বেড়ান। একান-ওকান করে একসময় তা রাষ্ট্র হয়ে যায়। এতে বিব্রত হন কর্মক্ষেত্রে ঘুমানো ব্যক্তিটি। এসব নিয়ে বিব্রত হওয়ার ধার না ধারার লোকও আছেন।

গত শতকের নব্বইয়ের দশকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদক হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ব্যুরোতে কর্মরত ছিলেন ভিম সুবাস্ত। কর্মক্ষেত্রে আয়োজন করে ঘুমানোর জন্য দুর্নাম কুড়িয়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি এমনই ছিল যে এএফপির হংকংয়ের কার্যালয় থেকে কেউ জাকার্তায় এলে তাঁরা প্রথমেই বিমের কাছে তাঁর বিছানা সম্পর্কে জানতে চাইতেন।

ভিমের ভাষ্য, কাজের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে একটু ঘুমিয়ে নিলে শরীর-মন চাঙা হয়ে ওঠে। ঘুম থেকে উঠে মনে হয়, দিনটা যেন শুরু হলো মাত্র। ফলে দিনের বাকি সময়টা দারুণ কর্মশক্তি মেলে।

ভিমের মতো অনেকেই আছেন, যাঁরা কর্মক্ষেত্রে একটু ঘুমিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক ভাবেন। দক্ষিণ ইউরোপে দুপুরের ঘুম স্বীকৃত। চীনে মধ্যাহ্নভোজের পর কর্মক্ষেত্রের ডেস্ক, পার্কের বেঞ্চ, রেস্তোরাঁ বা ঘাসের ওপর লোকজনকে ঘুমোতে দেখা যায়। জাপানে অফিসে ঘুমে ঢুলুঢুলু করাকে ভালো চোখেই দেখা হয়। এর মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর কঠোর পরিশ্রমের ইঙ্গিত দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ নাতালি দতোভিচ বলেন, মস্তিষ্কের রক্ষক হিসেবে কাজ করে ঘুম। মস্তিষ্ক থেকে বিপাকীয় বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে ঘুম।

বিশেষজ্ঞরা এ কারণেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেন। এ কথা কমবেশি সবাই জানে। কিন্তু তা কজন মানে! এখন মোবাইল-ট্যাবের মতো প্রযুক্তিও মানুষের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে।

নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমের ক্ষেত্রে হেরফের হলে ব্যক্তিকে তার ফল ভোগ করতে হয়। নাতালির ভাষ্য, ঘুম থেকে বঞ্চনার প্রভাব ব্যক্তির কাজকর্মের ওপর পড়ে।

ঘুম নির্দিষ্ট ও নিরবচ্ছিন্ন করতে নিয়মানুবর্তিতার কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা।

কর্মক্ষেত্রে ঘুম নিয়ে অনেকের মধ্যেই একধরনের ভ্রান্ত ধারণা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ নাটালির মতে, ঘুমকে ইতিবাচক স্বাস্থ্যগত আচরণের পরিবর্তে বিলাসিতা হিসেবে দেখার একটা ভুল ধারণার মধ্যে অনেকে আটকে আছেন। কিন্তু মানুষের উৎপাদনশীলতার জন্য ঘুম মঙ্গলকর। কর্মক্ষেত্রে ঘুম উৎসাহিত করার পক্ষে তিনি।

চীনে কর্মক্ষেত্রে মধ্যাহ্নভোজের পর কর্মীদের অন্তত আধঘণ্টা ঘুমাতে উৎসাহিত করা হয়। এতে উৎপাদনশীলতা বাড়ে বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস (ন্যাটস) কর্মক্ষেত্রে তাঁদের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের সংক্ষিপ্ত ঘুমের ব্যাপারে উৎসাহিত করে। এ জন্য ব্যবস্থাও আছে।

কর্মক্ষেত্রে ঘুম পেলে কী করা যেতে পারে, তার কিছু কৌশল বাতলে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘুম পেলে কর্তাব্যক্তির অনুমতি নিয়ে একটু ঘুমিয়ে নেওয়া যেতে পারে। মধ্যাহ্নভোজের পর ঘুমঘুম ভাবটা একটু বেশিই আসে। এই সময়ে একটু ঘুমিয়ে নিন। ঘুমের জন্য নিরিবিলি একটা জায়গা বের করুন। গভীর ঘুম এড়াতে ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুমের কাজ সেরে ফেলুন। আর কাজের জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে ১০ মিনিট সময় নিন। এরপর নতুন কর্মশক্তি নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। বিবিসি অনলাইন ও গ্লোবাল টাইমস অবলম্বনে।

 

Advertisement

কমেন্টস