দুর্ঘটনা ঠেকাতে টিউশনির অর্থে সড়কে রং করলেন ছাত্রলীগ কর্মীরা

প্রকাশঃ আগস্ট ৯, ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

রাতের সুনসান নীরবতার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটার ভবনের সামনের রাস্তায় চলন্ত মোটর সাইকেলের পথ আগলে দাঁড়ায় চার তরুণ। মোটর সাইকেল চালক তাদের পরিচয় জানতে চাওয়াতেই চার তরুণ বলেন, ছাত্রলীগের কর্মী আমরা, আপনি যেতে পারবেন না৷ স্বাভাবিক ভাবেই একটু ভয় পান চালক। তবে খানিকপরেই আশ্বস্ত হলেন চার তরুণের কথা শুনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের পেছনের দিকের প্রবেশ পথে স্পিড ব্রেকারে রং লাগাচ্ছিলো তারা। যার কারণে সে সময় পথ আগলে দাঁড়ান।

জানা যায়, টিউশনির জমানো অর্থ দিয়ে সড়কে স্থাপিত গতিরোধকে রং করছিলো ছাত্রলীগের এই চার কর্মী। যানবাহন চালকদের দৃষ্টিগোচর করার জন্য তারা এ রং করেন। যাতে করে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে।

চার তরুণ জানান, শেখ হাসিনার উৎসাহে, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ভাইয়ের দিক নির্দেশনায় চার বন্ধু মিলে নিজেরাই রঙ করে দিচ্ছিলো এই গতিরোধকে।

এই চার তরুণ হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সহ সম্পাদক রুদ্র রাইয়ান খান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সাইমন সানি, এস এম হল ছাত্রলীগের রাফসান খান ফারিজ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিঠুন বাড়ৈ।

প্রশাসনের নাকের ডগায় থাকা এই ব্যস্ত সড়কে ধারাবাহিক অবহেলায় বিরক্ত হয়েই নিজেরাই টিউশনির জমানো টাকা দিয়েই মধ্যরাতে স্পিড ব্রেকারে রঙ লাগানোর কাজে হাত দেন বলে জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সাইমন সানি।

মিঠুন বাড়ৈ জানান, বঙ্গবন্ধু হলের তাদের তিন ছোট ভাইসহ, সাইমন সানি নিজেও এই জায়গায় রাতের বেলা স্পিড ব্রেকার না দেখার কারণে, দূর্ঘটনায় পড়তে হয়েছিল। তাই বাধ্য হয়েই নিজেদের জমানো অর্থে রং করতে হল।

এ ব্যাপারে চার তরূনের দাবি, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং ছাত্রলীগের সমর্থন শুরু থেকেই ছিলো। সেই দাবি কে বাস্তব রূপ দিতে প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকেই কাজ করতে পারে। ছোট ছোট খানা খন্দ কয়েকজন মিলে নিজেরাই ভরাট করে ফেলা যায়।

কমেন্টস