ঢাবির কার্জন থেকে ছাত্রলীগের শীর্ষে নেতৃত্বে আসতে পারেন যারা

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৮, ২০১৮

ঢাবি প্রতিনিধি

বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে আগামীতে ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দিতে রাজনীতিতে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষের অভাব রয়েছে। আসন্ন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন এবং ত্যাগী ছাত্রনেতাদের নিয়ে মাসব্যাপী ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ ৩য় পর্বে থাকছে ঢাবির কার্জন হলস্থ পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতাদের পরিচয়, যারা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার যোগ্যতা রাখেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলস্থ সায়েন্স ফ্যাকাল্টির শিক্ষার্থীরা ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা এবং যাবতীয় ব্যস্ততার মাঝেও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্জন হলস্থ ছাত্রনেতাদের ভূমিকা বরাবরের মতোই প্রশংসনীয়। কিন্তু গত কমিটিতে শীর্ষে নেতৃত্ব কার্জন হল থেকে কেউ আসেনি। সুতরাং কার্জন হল থেকে এবার নেতৃত্ব উঠে আসার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

আনোয়ার পারভেজ আরিফিনঃ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ আরিফিনের রাজনৈতিক মূল্যবোধ এবং দক্ষতাই তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সকলের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছে। কার্জন হলে ছাত্ররাজনীতির উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছে কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবেই অধিক পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আনোয়ার পারভেজ আরেফিন সর্বদা হাসিমুখে সকলের সাথে ব্যবহার করেন। রাজনীতির ক্যারিয়ারে তিনি সর্বদা স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়েই নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন সকলের কাছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মতে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্য এমন নিবেদিত প্রাণেরই ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্বে আসা জরুরি।

সাকিব হাসানঃ

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাকিব হাসান একজন বিপ্লবী ছাত্রলীগ নেতা। ছাত্রদল ও শিবিরের নাশকতার হাত থেকে ঢাবি ক্যাম্পাস রক্ষায় উনার নেতৃত্ব সকলের কাছে বরাবরই প্রশংসনীয়। হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, ছাত্রনেতাদের নামে যে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠে, তিনি সেটার বাইরে। অর্থাৎ সাকিব হাসান সভাপতি হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন, সেটা অনুকরণীয় সকলের কাছে। ছাত্ররাজনীতির যে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও আদর্শ নিজের মধ্যে লালন করে চলেছেন, সেটার ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী দিনেও  পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতির ভাবমূর্তি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলবেন; এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ শিক্ষার্থীসহ হলের স্টাফদের।

শাহরিয়ার সিদ্দিক সিসিমঃ

ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার সিদ্দিক সিসিম একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতা। ঢাবি ক্যাম্পাস জুড়ে সকলের কাছে তার রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ বরাবরই পাওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস হিসেবে স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি পূরণে তিনি সর্বদা জাগ্রত। ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শাহরিয়ার সিদ্দিক সিসিম বঙ্গবন্ধুর চেতনা সামনে রেখে যেভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন, সে হিসেবে বলা যায় তিনি একজন সার্থক হল সভাপতি।

ত্বরিকুল ইসলাম সুমনঃ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ত্বরিকুল ইসলাম সুমন মেধাবী ছাত্রনেতা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপরিচিত। পড়াশোনায় যেমন পরিশ্রম করেছেন, তেমনি রাজনীতিতেও তেমনিভাবে পরিশ্রম করে চলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতে এমন মেধাবী ছাত্রনেতারাই ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ ঠেকাতে ত্বরিকুল ইসলাম সুমন মাঠ পর্যায়ে সর্বদা জাগ্রত ছিলেন। আসন্ন সম্মেলনে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন ত্বরিকুল ইসলাম সুমন।

মাহফুজুর রহমানঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ছাত্রলীগের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ এবং কর্মীবান্ধব ছাত্রনেতা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের কাছে সুপরিচিত। তাছাড়া রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও দূরদর্শীতাই তাকে রাজনৈতিক মহলে জনপ্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

মোঃ আল এমরানঃ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ইমরান খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে জানা যায় যে, ছাত্রলীগের পিছনে উনি অনেক শ্রম দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সাথে সংঘর্ষে মাথা ফেটে আহত হোন তিনি। ভবিষ্যতে উনি এই শ্রমের মূল্য পাবেন, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। অমায়িক আচরণ এবং কাঁদা ছুড়াছুঁড়ি রাজনীতিমুক্ত সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতির চর্চা করেন ইমরান খান।

এছাড়াও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন রিফাত, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান নয়ন, কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সম্পাদক মোঃ ফেরদৌস শাহরিয়ার নিলয়, উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সদস্য ফয়েজ আলোচনায় রয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, সর্বশেষ ছাত্রলীগের ২৬তম সম্মেলনের মাধ্যমে ২০০৬ সালে উত্তরবঙ্গ অঞ্চল থেকে নেতৃত্ব আসে। তখন উত্তরবঙ্গ থেকে মাহমুদুল হাসান রিপনকে সভাপতি করা হয়। এরপর ২৭ ও ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে এই অঞ্চল থেকে আর নেতৃত্ব আসেনি। ফলে এবারের সম্মেলনের প্রার্থী নির্বাচনে এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৫ এপ্রিল ছাত্রলীগের করা সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী ২৯তম জাতীয় সম্মেলন হবে আগামী ১১ ও ১২ মে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, উত্তর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন হবে যথাক্রমে ২৪, ২৬ ও ২৯ এপ্রিল।

কমেন্টস