Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

চরভদ্রাসনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, আতঙ্কে অভিভাবকরা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৮, ০১:২০ PM আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৮, ০৩:০৫ PM

bdmorning Image Preview


মনির হোসেন, চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিলারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কোমলমতি ও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ফলে আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষার্থীরা।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ের ২/৩ জন শিক্ষার্থী রাতের বেলায় বিদ্যালয়টির বারান্দায় দাড়িয়ে রয়েছে।

ওদের কাছে বিদ্যালয়টির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানায়, আমরা তিন জনই এই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী। আমাদের এ স্কুলে পড়তে ভয় লাগে। কখন জানি আমাদের মাথার উপড়ে ছাদ ভেঙে পরে। কিছুদিন আগে লোহারটেকে বিল্ডিংয়ের ছাদ ভেঙে শুনেছি এক জন না দুই জন নাকি মইরা গেছে। আমরা স্যারদেরকে ভাঙা স্কুলের কথা বললে তারা আমাদেরকে ভাঙা স্থান থেকে সরে বসতে বলে।

মঙ্গলবার ওই গ্রামের বাসিন্দা মৃত আমিন মোল্যার মেয়ে ও উক্ত স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী খাদিজা জানান, আজ আমি স্কুলে গেলে হটাৎ করে আমার এক পায়ের উপর ছাদের কিছু ভাঙা অংশ পরে আমার এক পা সামান্যভাবে জখম হয়।

খাদিজা এসময় আরো জানান, কিছুদিন আগে আমার মত আমাগো স্কুলের ইব্রাহিমের পায়ের উপড়ও ছাদের ভাঙা অংশ পরে ওর পা জখম হয়। আমরা স্যারদেরকে ভাঙা পড়তে ভয় লাগে বললে, স্যাররা তখন আমাদেরকে বলে তোমরা একটু একটু কষ্ট একটু কষ্ট করো বলে আমাদেরকে সান্তনা দেয়। খাদিজা বলেন, আমরা চাই যাতে আমাদের বর্তমানের ভাঙা স্কুলটির পরিবর্তে এখানে নতুন একটি স্কুল নির্মাণ করা হয়।

এদিকে, ভাঙা স্কুলের মধ্যে সর্বদা আতঙ্কে থাকা ওই স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী খাদিজার মা ও ৫ম শ্রেনির আরেক শিক্ষার্থীর মা আনুরা জানান, আমরা “আমাগো পোলাপাইনগো এই স্কুলে পাটাইয়া সবসময় আতঙ্কে থাকি”। কখন কি হয়। আমরা স্কুলের বিষয়ে মাষ্টারগো বললে, “মাষ্টাররা আমাগোরে কয় দেহস না আমরা বিডি মানুষ হারা পাইরন্যা” আমরা ব্যবস্থা করবানি বলে তারা আমাগোরে কয় বলে তিনি জানান।

জানা যায়, ১৯৯৪ ইং সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ব্যায়ে বিদ্যালয়টি নির্মাণ করে। প্রথমদিকে বিদ্যালয়টি ভালো থাকলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ ও দুর্বল হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অনেকটাই অকেজো হয়ে পড়েছে। এদিকে, বিদ্যালয়টির প্রতিটি শ্রেনিকক্ষের ভিতরের ছাদের মাঝের ভিমসহ ছাদের কিছু কিছু অংশ খসে খসে পড়ছে। ছাত্র ১৮৯ জন শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়টিতে রয়েছে জরাজীর্ণ ৩টি মাত্র শ্রেনিকক্ষ।

বুধবার বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক আছমা জানান, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুকির মধ্যে দিয়ে প্রতিদিন ১৮৯ জন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার্থীদের অব্যাহত রয়েছে। তাছারা, মাঝে মাঝে ছাদের ভিমসহ কিছু কিছু অংশ যে ভাবে ধ্বসে পড়ছে তাতে শিক্ষার্থীদের সাথে সাথে আমরা শিক্ষকরাও প্রতিনিয়িত আতংকের মধ্যে রয়েছি বলে তিনি জানান।

তিনি আরো জানান, আমি গত কয়েকমাস ধরে বিদ্যালয়টির (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তবে আমি শুনেছি আগের প্রধান শিক্ষক এ ঝুকিপূর্ন বিদ্যালয়টির ব্যাপারে বেশ কয়েকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তালিকা ও অবহিত করেছেন। শুধু তাই নয় আমিও গতকাল ঝুকিপূর্ন এ বিদ্যালয়টির একটি লিখিত তালিক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছি।

বিদ্যালয়টির বিষয়ে ওই ওয়ার্ডের ইউপি’ মেম্বার মোঃ পান্নু ফকির বলেন, শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের অবুঝ শিশুরা এই জরাজীর্ণ ভবনে লেখা-পড়া করে। কিন্তু ভবনটি যে ভাবে ভেঙ্গে যাচ্ছে, তাতে বড় ধরনের বিপদ হওয়ার আশংকা রয়েছে। এই আশংকা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের নতুন একটি ভবন অতি জরুরী বলে তিনি জানান।

এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা উপজেলার সকল জরাজীর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা সংগ্রহ করছি। এবং ইতি মধ্যে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের তালিকা আমাদের হাতে এসেও পৌছেসে। তবে টিলারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকাটি অফিসে জমা দিয়েছে কিনা আমি জানি না। আমি অফিসে গিয়ে প্রথমেই টিলারচর বিদ্যালটির তালিকাটি খুজবো। এবং আমি সম্ভব হলে আগামীকাল একবার সজেমিনে গিয়ে বিদ্যালয়টির হালচিত্রও ঘুরে দেখে আসব বলে তিনি জানান।

Bootstrap Image Preview