আগামিকাল হতে যাচ্ছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কনভোকেশন

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

প্রতীকী

মহিউদ্দীন তারেক, সিকৃবি প্রতিনিধিঃ

আজ ভালোবাসা দিবস আর আগামিকাল সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম কনভোকেশন।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের আনন্দে উদ্বেলিত হবার দিন। যেখানে ইতিহাসে আটকে থাকা এক সময়ের উত্তাল যৌবনের উন্মাদনা কোনো এক গোধুলী লগ্নে অস্তগামী হয়ে ছিল। সেখানেই আলোচ্ছোটা হয়ে সিকৃবির গ্রাজুয়েটরা বিচ্ছুরণ করবে।

ইতিহাসের অগ্নীসাক্ষী করতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। শহীদ মিনার, টি.এস.সি এর নির্মাণ শেষ। রাস্তায় নতুন করে বসেছে পিচ, হাল আমলের পানির ট্যাংকির সামনের রাস্তাও সংস্কার করে সাজানো হয়েছে নতুন ভাবে। আর রাতের বেলা বঙ্গবন্ধু চত্বরের মোহনীয় রূপ যেন পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে যেন এক অনন্যতা দান করেছে। বিশাল প্যান্ডেল প্রস্তুত হচ্ছে, আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।

মলিন হয়ে যাওয়া প্রতিটি বিল্ডিং কে রঙ তুলির আচড়ে নতুন করে জাগিয়ে তোলা হয়েছে। বাদ যায়নি ঐতিহ্যের সাক্ষী ঐ পানির ট্যাংকিও । মরিচ বাতির আলোয় রাতের বেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবন সমাবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। কস্টিউম বিতরণ করা হয়েছে, চলছে র‍্যালির রিহার্সোল। কেউ কেউ কস্টিউম পড়ে ছবি আপ্লোড করছেন ফেসবুকে আর কেউ ফেলছেন স্বস্তির নি:শ্বাস।

কোথাও কারো দম ফেলাবার সময় নেই। কনভোকেশন আয়োজক কমিটি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে পুরো অনুষ্ঠান টিকে পূর্নাঙ্গতা দিতে। নি:শ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে আইন শৃঙখলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত। চলছে নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করার মহড়া। ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছে সাত দিনের জন্য। হলগুলোতে কনভোকি ছাড়া আর কেউ থাকতে পারছেনা। অর্থাৎ ৫০ একরের সিকৃবিতে এখন সিকৃবির প্রাক্তন স্টুডেন্টে ভর্তি। আশে পাশের চায়ের দোকান গুলোতে জমে উঠেছে পুরান দিনের গল্প।

কনভোকেশন নিয়ে সাবেকদের আবেগ অনুভূতি কেমন তা জানতে কথা হয় ডিভিএম প্রথম ব্যাচের ছাত্র, কর্পোরেট জগতের সফল মুখ ডা: বায়েজিদ এর সাথে। তিনি জানান , ” সত্যিই অন্য রকম এক ভালোলাগা কাজ করছে। প্রিয় ক্যাম্পাসে সকলে একত্রে মিলিত হব এটা ভাবতেই দারুণ লাগছে।”
এছাড়া শুরুতে ১ম ব্যাচ থেকে ৫ম ব্যাচ কে কনভোকেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলেননি তিনি।

ডিভিএম ৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মিজানুর রহমান জানান, ‘খুব নস্টালজিক ফিল করছি। আমরা তো এ ক্যাম্পাসের শুরুর দিকের স্টুডেন্ট। আমাদের অনেক আবেগ অনুভূতি এ ক্যাম্পাসের সাথে মিশে আছে। আর ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার পর সকলে মিলে ক্যাম্পাসেই একসাথে মিলিত হবার সুযোগ হয়নি। সে হিসেবে এটা একটা বাড়তি পাওয়া।

৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মিতার বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্নে থাকে কালো গাউন পড়ে কনভোকেশনে অংশগ্রহণ করার। অনেক দিন পরে হলেও সে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে, সবার সাথে দেখা হচ্ছে এটা একটা অন্যরকম অনুভূতি যা ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয়।’

প্রাক্তনদের স্মৃতিকাতরতা আর আয়োজক কমিটির ব্যাস্ততায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন চলছে উৎসবের আমেজ। ইতিহাসের প্রথম সমাবর্তন সফল হোক, এগিয়ে যাক সিকৃবি

কমেন্টস