শিশুদের মাঝে বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে সিরাজগঞ্জে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

বিজয় মানে শিশুর হাসি মায়ের কান্না শেষ, বিজয় মানে লাল সবুজের স্বাধীন বাংলাদেশ। কবির এই অমর কবিতার চরণকে স্লোগান হিসেবে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচির মুকুন্দগাঁতি গ্রামের ‘আলোকিত সাহিত্য কেন্দ্র’ পাঠাগার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন (জাপাআ) এর সহযোগিতায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা- ২০১৭ আয়োজন করে।

এতে অংশ নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী। এরা প্রত্যেকেই প্রথম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেরা ৩ জনকে বিশেষ পুরষ্কার প্রদানসহ সেরা ২০ জনকে দেওয়া হয়েছে একসেট করে বই। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরো ৫০ জন অংশগ্রহণকারীকে সনদ প্রদান করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারি সেরা ৩ জন হলেন মো. সালমান খান-প্রথম (দশম শ্রেণি), মো. সানজিম আহমেদ-দ্বিতীয় (তয় শ্রেণি), আব্দুল্লাহ আল গালিব- তৃতীয় (৭ম শ্রেণি)। বক্তারা প্রত্যেক বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন।

আয়োজনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আরিফ চৌধুরী শুভ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুন নাহার পপি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম রেজা, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. খোরশেদ আলম ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নাজির উদ্দিন এবং বেলকুচি শিশু একাডেমির অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসানসহ প্রমুখ।

পরীক্ষার তদারকি ও ম্যাজিস্ট্রেসি দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম রেজা। মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করেন বেলকুচি শিশু একাডেমির সহকারি সিনিয়র শিক্ষক মো.জহিরুল ইসলাম ও দুলাল কুমার সাহা।

পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে আলোকিত সাহিত্য কেন্দ্রর প্রতিষ্ঠাতা রাসেল সরকার বলেন, বিজয়ের মাসে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের সহযোগিতায় সিরাজগঞ্জের শিক্ষার্থীদের আমরা আজকের এই সুন্দর আয়োজনটি উপহার দিতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্যে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম রেজা বলেন, এটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। শুধু ধন্যবাদ দিয়ে নয়, এই আয়োজনে যারা সহযোগিতা করেছে, তারা হলেন জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন। আমরা সিরাজগঞ্জের মাটিতে তাদের স্বাগতম জানাই আবারো। জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন সারাদেশে পাঠাগার গড়তে কাজ করে যাচ্ছে।

গোলাম রেজা আরও বলেন, আমরা এমন একটি সময়ে বাস করছি যেখানে আমাদের তরুণ সমাজ অর্থ উপার্জনের পিছনে জীবনকে ছুটায়। কিন্তু এই তরুণরা সমাজের জন্যে যেটা করছে সেটি নিঃস্বার্থভাবেই করছে। এখানে কিছুই পাওয়ার নেই। আজকের এই আয়োজন তারই প্রমাণ। এই সমাজ এখনো স্বপ্ন দেখে এমন তরুণদের নিয়ে। আমরা উপজেলা প্রশাসন ভবিষ্যতে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি আলোকিত সাহিত্য কেন্দ্রকে ও বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি জাপাআকে।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আরিফ চৌধুরী বলেন, একঝাঁক তরুণের স্বপ্ন জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন। এই স্বপ্ন আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজারো তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। এমনই একটি স্বপ্নের সন্ধান আমরা পেয়েছি এই সিরাজগঞ্জের বেলকুচির মুকুন্দগাঁতি গ্রামে। আমি ‘আলোকিত সাহিত্য কেন্দ্র’ পাঠাগার ও তার প্রতিষ্ঠাতা আল রাসেল সরকারের কথা বলছি।

আরিফ চৌধুরী আরও বলেন, এই শীতের সকালে কুয়াশা মোড়ানো প্রকৃতিকে আমি অষ্পষ্ট দেখালেও আজ এখানে উপস্থিত শিশুদের চোখে যে স্বপ্ন, সেটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট ও পবিত্র। তারা এত নিখুঁত ভাবনা দিয়ে এক একটি চিত্র অঙ্কন করেছে, দেখলেই মনে হচ্ছে বাস্তবতা প্রত্যেকেরই মুখোমুখি। এদের কাছে দেশটাও তাদের আাঁকা ছবির মতো সুন্দর। আমরা সারাদেশেই পাঠাগারগুলোতে এক এক করে যাচ্ছি এবং যাবো। আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি অনুরোধ আপনারা প্রতিটি ঘরে একটি করে পাঠাগার গড়ে তুলুন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেলকুচি শিশু একাডেমির অধ্যক্ষ অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন আরো প্রোগ্রাম করতে চাইলে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

কমেন্টস