সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ দরকারঃ প্রফেসর আবদুল মান্নান

প্রকাশঃ আগস্ট ১৩, ২০১৭

আবু সালাহ সেলিম, ইবি প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেছেন, আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু ছোট কিন্তু এর তাৎপর্য গভীর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন, তাঁকে নিয়ে আলোচনা করা খুব কঠিন। বঙ্গবন্ধু শিক্ষকদের অনেক শ্রদ্ধা করতেন, শুধু তিনি নয় তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও শিক্ষকদের শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।

আজ বিকেলে  বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাতীয় শোকদিবস ২০১৭ উপলক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত “বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে জাতির পিতাবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে  চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ২৩ বছরে পাকিস্তানে ১৮ বার সর্বমোট ১৪ বছর জেলে কাটিয়েছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে মাত্র সাড়ে ৩ বছর তিনি কাজ করার সময় পেয়েছেন। এত অল্প সময়েও তিনি দেশের শিক্ষা ও শিক্ষকদের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন। তাঁর সময়কালে ২৫২টি আইন সংসদে পাস করা হয়েছে।’

প্রফেসর বলেন, ‘১৯৭২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্বশাসন আইন পাস করান। বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের স্বার্থে তিনি ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন গঠন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করা হয় ৭৮৪ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু  শুধুমাত্র শিক্ষাখাতে ৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন।  কারন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ দরকার। এজন্য তিনি শিক্ষার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে জাতীয়করণ করেছিলেন। স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদেরকে তিনি বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। প্রতিটি জেলায় জেলায় টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ ও লালন করতে হবে। বঙ্গবন্ধরু অসমাপ্ত জীবনীসহ বঙ্গবন্ধুর উপর লেখা বই পড়ে বঙ্গবন্ধুকে জানতে ও চিনতে হবে। তাহলে একদিন আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা পূর্ণাঙ্গভাবে গড়তে পারবো।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা।

সভায় সভাপতির বক্তৃতায় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা করার মতো অজস্র  বিষয় আছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আশারাখি এবিষয়ে ইউজিসির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।”

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু ব্রিটিশ ও পাকিস্তানের শিক্ষা কাঠামোর পরিবর্তন করে দেশীয় শিক্ষা কাঠামো তৈরী করেছিলেন। মাতৃভাষার মধ্যদিয়ে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু।”

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, “স্বাধীনতার পর দেখা যায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে  প্রায় ৬০ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু সেসময় এ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুণরায় চালু করার ব্যবস্থা করেছিলেন। এমনকি প্রতিরক্ষা খাতের চেয়ে তিনি শিক্ষা খাতে বেশি বরাদ্দ দিয়েছিলেন।  শুধু তাই নয় তিনি ৪৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করেছিলেন। এর থেকে বোঝাযায় যে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা এবং শিক্ষকদের প্রতি কত দরদী ছিলেন। “

অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, “ছাত্র জীবনে স্লোগান দিতাম এক মুজিব লোকান্তরে লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে। তখন হয়তো বা না বুঝেই এই স্লোগান দিতাম। আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি প্রমাণ করে বাংলার ঘরে ঘরে লক্ষ মুজিব জন্ম নিয়েছে।”

আলোচনাসভা পরিচালনা করেন ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমান এবং আইন ও মুসিলম বিধান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরমিন খাতুন।

সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

Advertisement

কমেন্টস