এক সময় আজমত আলীর সবকিছুই ছিল

প্রকাশঃ মার্চ ১৭, ২০১৭

শেখ জাকির হোসেন-

এই হল আজমত আলী। শতগ্রাম ইউনিয়নের কাশিমনগর গ্রামে তার বাড়ি। এক সময় সবই ছিল তার। বউ সন্তান মিলে ছোট্ট একটি সংসার। আর ছিল গরিবের একমাত্র সম্বল গায়ের জোর। কারণ গরিবরা তাদের গায়ের জোরকে কাজে লাগিয়ে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে অর্থ আয় করে।

মজিদ মিয়া দুই ছেলে সন্তানের জনক। নিজে না খেতে পারলেও ছেলেদের তিন বেলা ঠিকই খাওয়ান তিনি। রাত দিন উপেক্ষা করে হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে যান তিনি শুধু সন্তানের মুখে হাসি ফুটানো জন্য। এক সাথে খাবার বসলে আজমত আলীর বউ যদি মাছের মাথাটা তার পাতে দিতো সে নিজে মাথাটা না খেয়ে তার ছেলেদের পাতে তুলে দিতো। ঈদে নিজের জন্য কিছু না কিনে ছেলেদের জন্য ঠিকই জামা কিনে দিতো। তার তো চাওয়া ছিল একটাই শুধু সন্তানের মুখে হাসি।

এক সময় আজমত আলীর সবকিছুই ছিল

তার ছেলেরা একদিন বড় হল। আজমত আলীরও গায়ের জোর কমতে লাগল। সে আর আগের মত পরিশ্রম করতে পারে না। আর তার এখন পরিশ্রম করার দরকারি বা কি। তার ছেলেরা যে আয় করতে শিখেছে এখন। বেশ ভালই কাটছিল দিন আজমত আলী বউ সন্তান নিয়ে।

কিন্তু সুখ তো সে এক অতিথি পাখি। সে নিজের ইচ্ছায় আসে আবার চলে যায়। আজমত আলীর বেলাও ঠিক তাই হল।

ছেলেরা বউ আনল ঘরে আর সুখ পালিয়ে গেল। শুরু হল বিরোধ বড় ছেলের সংসার থেকে আলাদা হয়ে গেলো। আজমত আলী সুখের সংসারে কে যেন বিষ ঢেলে দিলো।

এখন আজমত আলী ছোট ছেলে সংসারের খায়, কিন্তু কাজ করে খেতে হয়। একদিন কাজ না করলে খাওয়াদাওয়া বন্ধ।

আজমত আলী ৬৫টি বছর পার হয়ে গেছে এখনো সরকারি কোনো সুযোগসুবিধাই ভাগ্যে জোটেনি।

Advertisement

কমেন্টস