২৩ বছর বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন জাহাঙ্গীর

প্রকাশঃ মে ১৬, ২০১৮

এসএম বাচ্চু, তালা (সাতক্ষীর) প্রতিনিধি:

শিক্ষক নামটি  মায়ের মতোই মধুর। শিক্ষক পরিচয় শুনলেই যে কোন মানুষের মধ্যে  শ্রদ্ধাবোধ  জেগে উঠবেই। সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ একটি পেশার কাছেই কেবল দুর্বল আর সেটি হলো শিক্ষক। কিন্তু বর্তমানে দেশে সকল শ্রেণীর-পেশার মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত একটি  পেশা হলো  শিক্ষকতা।

সমাজে তাদের শিক্ষক হিসাবে যদি সম্মানটুকু না থাকতো তাহলে হয়তো কেহই এই মহান পেশায় শামিল হতেন না।  ১৯৯৪ সালে বি,এ পাস করার পর তালা উপজেলা সদরে  প্রতিষ্ঠিত তালা পাবলিক হাইস্কুলে ১৯৯৫ সালে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন সাংবাদিক এসএম জাহাঙ্গীর হাসান। বহু চড়াই-উৎরাই আর পথপরিক্রমায় ২০১৮ সাল দীর্ঘ ২৩ বছর বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে দীর্ঘ নিঃশ্বাসে বেনা বেতনে  আজ অবসরে যাওয়ার পথে তিনি।

দীর্ঘকাল এমপিওভুক্ত না হওয়ার কারনে বেতন না পেয়ে  এক প্রকার  বাধ্যতামূলক মানবেতর জীবনযাপন আর অভাব অনাটন তার নিত্যদিনের সঙ্গি। দৈন্যন্দিন অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমস্যা খুরে খুরে খাচ্ছে ওই শিক্ষককে। ইতোমধ্যে একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোল থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। কিন্তু প্রতিদিন সকালে নিদিষ্ট সময় হলে মনের অজান্তে কখন যে তিনি হাজির হয়ে যান বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে তা  তিনি নিজেই বলতে পারেন না।

জানামতে, বিদ্যালটির মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিও ভুক্তির জন্য কতবার যে তিনি ঢাকায় গিয়েছেন তার কোন হিসাব নেই। ঢাকায় যাওয়া ,আসা,থাকা,খাওয়া ও সচিবলায়ে বিভিন্ন উপায়ে গেট পাশ নেয়া থেকে শুরু করে এমপিও পাওয়ার আশায় তিনি যতো টাকা খরচ করেছেন তা একসাথে জমা করলে সাতক্ষীরা জেলা শহরে  একটা ২তলা বাড়ি বানানো যেতো।  একই সঙ্গে তারা যে কজন  সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেছিলেন তাদের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ছাড়া সবাই বেতন পাচ্ছেন এবং বর্তমানে তারা সিনিয়র স্কেলে উন্নীত হয়েছেন।

শিক্ষক হয়েও  তিনি বেকার ২৩ বছর। বিদ্যালয়ে যোগদানের আগে কোন শিক্ষকের  এতো তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়তো থাকে না । কিন্তু যারা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদে থাকেন  এবং টাকা নিয়ে চাকুরি দেন তারা তো জানেন না এই বিড়ম্বনার কাহিনী । জাহাঙ্গীর হাসানের মতো দেশে হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় যুক্ত হয়ে  আজ  অসহ্য  যন্ত্রনায়  ছটফট করছেন। বেতন না পাওয়া শিক্ষক সমাজ আজ এমন বিপর্যয়ের মধ্যে বসবাস করছেন – না পারছেন কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের  রেখে অন্য কোন পেশায় যেতে, না পারছেন চাকুরীর নামে বেকার যন্ত্রনা সহ্য করতে।

কমেন্টস