প্রখ্যাত সঙ্গিতজ্ঞ ও গীতিকার অনিমেষ ব্যানার্জীর ৯ম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

প্রকাশঃ মে ১২, ২০১৭

রনজিৎ বর্মন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বৃহঃস্পতিবার সন্ধ্যায় নকশীকাঁথার আয়োজনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির হলরুমে দক্ষিণ বাংলার বিশিষ্ট সেতার বাদক, সুরকার, গীতিকার ও প্রখ্যাত সঙ্গিতজ্ঞ অনিমেষ ব্যানার্জীর ৯ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-০৪ আসনের এমপি এস.এম জগলুল হায়দার । বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর ইউপির চেয়ারম্যান ও বিশেষ পিপি এ্যাড. জহুরুল হায়দার বাবু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম আতাউল হক দোলন, বিশিষ্ট টিভি সঙ্গীত শিল্পী- রোজ বাবু, দেশ টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, অনিমেষ ব্যানার্জীর বড় কন্যা চন্দ্রিকা ব্যানার্জী, ছোট কন্যা কেয়া ব্যানার্জী, খুলনা বেতার শিল্পি গাজী সালাউদ্দিন বাপ্পী, সুকুমার জোয়ারদ্দার, গোলাম রহমান, প্রধান শিক্ষক জয়দেব বিশ্বাস ,মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, জাসদ শ্যামনগর উপজেলা সভাপতি শেখ হারুনর রশিদ, দক্ষিণের মশালের সম্পাদক আশেক ই এলাহী, সাংবাদিক রনজিৎ বর্মন,তরুণ কর্মকার প্রমুখ।

অনিমেষ ব্যানার্জীর বড় কন্যা চন্দ্রিকা ব্যানার্জী ও ছোট কন্যা কেয়া ব্যানার্জীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সারগম, জয়দেব বিশ্বাস, মাষ্টার নজরুল ইসলাম, সুপর্ণা কর্মকার, তরুণ কর্মকার, সুকুমার জোয়ারদার, ঐশ্বর্য্য কর্মকার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অনিমেষ ব্যানার্জীর ছবিতে প্রধান অতিথির মাধ্যমে মাল্যদান ও প্রদীপ প্রজ্বোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা হয়। এর পর ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন তিনি ১৯২৪ সালের ৫জুন শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রয়াত গিরিন্দ্রনাথ ব্যানার্জী একজন সুরসাধক ও মাতা সরোজিনী দেবী ভক্তি গীতির সুগায়িকা ছিলেন। অনিমেষ ব্যানার্জী ছিলেন একজন সৃষ্টিশীল গীতিকার। তিনি প্রায় তিনশত সংগীত রচনা করেছেন। তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বহু শিক্ষার্থীকে। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার পক্ষে সংগীত পরিবেশন করেছেন।

১৯৭৩ সালে থেকে তিনি বাংলাদেশ বেতারে সংগীত পরিবেশ করেছেন। এই গুণি শিল্পী সংগীত চর্চার পাশাপাশি শ্যামনগর সরকারী মহসীন ডিগ্রী কলেজে প্রধান সহকারীর দায়িত্ব পালন করেছেন। অনিমেষ ব্যানার্জীর কন্যা সন্তান ও পরিবার বর্গের অন্যান্য সদস্যরা বিভিন্ন ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বলে বক্তারা বলেন। তিনি ১৯৮৯ সালে এক জনসভায় শিশু শিল্পীদের সংগীতানুষ্ঠান পরিচালনার জন্য পুরষ্কার স্বরুপ তৎকালীন রাষ্ট্রপতির পুরষ্কার লাভ করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে জেলা ও উপজেলা থেকে সম্মাননা লাভ করেন।

কমেন্টস