রাজধানীতে ১ টাকায় মিলছে শিশুদের দুপুরের খাবার!

প্রকাশঃ এপ্রিল ২০, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ছোটবেলা থেকে আমরা পড়ে   আসছি শায়েস্তা খাঁর আমলে এক টাকায় আট মন চাল পাওয়া যেতো। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির এই আমলে ৪০০ বছরের আগেকার সেই হিসাব পুরোই যে অবাস্তব সেটা সহজেই অনুমেয়। অবাস্তব হলেও রাজধানীতে ১ টাকায় খাবার দিচ্ছে  বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে এক টাকার বিনিময়ে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে এই কর্মসূচি শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ ৫টি জেলায় প্রতিদিন ৩০০ পথশিশুর মাঝে এক টাকায় খাবার বিতরণ করা এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। সম্প্রতি এ প্রজেক্টের ৭০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রথম দিকে বিনা পয়সায় খাবার বিতরণ করা হলেও পরবর্তীতে এক টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যানন্দের ‘এক টাকায় আহার’ প্রকল্পের বেশ কয়েকটি শাখা সৃষ্টি করা হয়েছে। শাখাগুলো হচ্ছে- ঢাকার মিরপুর, চট্টগ্রামের কসমোপলিটন রোড, নারায়াণগঞ্জের বটতলা কালি মন্দির, কক্সবাজারের বৈদ্যপাড়া, রাজবাড়ীর মধুপুর, রাজশাহীর রাণী নগর, রংপুরের মাস্টার পাড়া, ময়মনসিংহের সেনবাড়ী রোড প্রভৃতি।

এক টাকায় আহার প্রজেক্ট শুরু হয়েছিল বিদ্যানন্দের বেঁচে যাওয়া খাবার বাজেট থেকে। উল্লেখ্য, বিদ্যানন্দ মূলত একটি স্বেচ্ছাসেবামূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সারাদেশে স্কুলটির ৫টি শাখা রয়েছে যেখানে ৭৫০ জনের বেশি সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এই উদ্যোগের পিছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছেন প্রবাসী কিশোর কুমার দাস।      চাকরিসূত্রে বসবাস করেন পেরু’র লিমা শহরে।

কিশোর কুমার দাশের উদ্যোগে কল্যাণমূলক এই কাজে যুক্ত রয়েছে অনেক তরুণ-তরুণী। ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে কিছু দাতা এ ফাউন্ডেশনে অর্থ দিতে শুরু করে। এ প্রকল্পের আওতায় খাবার পেয়ে থাকেন ১২ বছরের নিচে অসহায় শিশুরা আর ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বৃদ্ধরা।

মূলত পথশিশুদের জন্য এ আয়োজন হলেও প্রকল্পটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তারা পৌঁছে গেছে এতিমখানা, বস্তি, রোহিঙ্গা ক্যাম্প, ছিন্নমূল, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশনসহ জনবহুল স্থানে। প্রকল্পে প্রতিদিন ৫০০ জনের রান্না হয়। এরপর ভ্যানে কিংবা রিক্শায় চলে যায় নির্দিষ্ট জায়গায়। এক টাকার বিনিময়ে যে কোনো পথশিশু কিংবা বৃদ্ধ কিনে নিতে পারে এই খাবার।

কিশোর কুমার দাশ বলেন, ‘আমরা পথে অনেক ক্ষুধার্ত শিশুকে দেখি। ওরা এক বেলা খাবারের জন্য সবার কাছে হাত পাতে। ভাবলাম অচিরেই ওদের জন্য কিছু করা দরকার। তখন থেকে ঢাকার গাবতলী ও বিমানবন্দর রেল স্টেশনে খাবার বিতরণ করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির এক ঝাঁক স্বেচ্ছাসেবক এ খাবার বিতরণ করে। এত কম দামে খাবার পেয়ে খুশি শিশুরাও। বিত্তশালীদের আরও সহযোগিতা পেলে প্রকল্পটি চালিয়ে নেওয়া সহজ হবে।’

বাংলাদেশে পথশিশুরা সংখ্যা ৪ লাখের বেশি। এরা বেশিরভাগ রাস্তায়, বাস ও রেলস্টেশনে রাত কাটায়। ক্ষুধায় অন্ন জোটে না। এদের জন্যই এক টাকার আহার প্রজেক্ট।

কমেন্টস