আধুনিকতার মোড়কে ‘বালতিতে’ পরিণত হচ্ছে রাজধানী ঢাকা

প্রকাশঃ এপ্রিল ২০, ২০১৮

বুলবুল আহমেদ।।

জলজট-জলাবদ্ধতা রাজধানী ঢাকার অনেক পুরনো একটি সমস্যা। বিগত কয়েক বছর এ সমস্যা যেন আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টি হবেই, এটা প্রাকৃতিক নিয়ম, বৃষ্টিকে থামিয়ে রাখার কোনো উপায় আমাদের জানা নেই। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমবে, সেটা মেনে নেয়া নগরবাসীর কাছে সত্যিয় কষ্টের।

বৃষ্টি হবে সেই পানি চলে যাবে মাটির নিচে অর্থাৎ প্রাকৃতিক ভাবেই ভূগর্ভে শোষণ করে নেয়। কিংবা আধুনিক ড্রেনের মাধ্যমে উন্মুক্ত স্থানে গিয়ে জমা হবে, অর্থাৎ খাল, জলাশয়, বিল-ঝিল কিংবা লেকে বৃষ্টির পানি গিয়ে জমবে। এটাই হওয়ার কথা। কিন্তু অত্যন্ত হতাশার কথা এই যে প্রাকৃতির সেই উৎসগুলো আমরা নিজেরাই বন্ধ করে দিয়েছি আধুনিকতার মোড়কে।

আধুনিক ঢাকা গড়ার লক্ষে সময়ের সাথে সাথে বিগত কয়েক দশক ধরে শহরের ৯০ শতাংশ জায়গার পুরোটায় কংক্রিটে মুড়ে দিয়েছি আমরা। বাকি যে ১০ শতাংশ উন্মুক্ত জায়গা রয়েছে তা দিয়ে কি সম্ভব মেগাসিটির এ শহরকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করা ? না সম্ভব নয়। তবে খালের কথা যদি বলি তাহলে তার অবস্থা যেন আরও নাজুক।

এক সময় ঢাকায় খালের সংখ্যা ছিল ৬২টি এর মধ্যে বর্তমানে টিকে আছে মোট ২৬টি। কয়েকটির উন্নয়ন হয়েছে বাকিগুলোর উন্নয়ন চলছে। এখন প্রশ্ন বাকী ৩৬টি খাল গেল কোথায় ? বাকী খালগুলো সবই দখল রয়েছে কিন্তু এ প্রশ্নগুলো বছরের পর বছর ঘুরপাক খেলেও কোন খাল উদ্ধার হয়নি। ৬০ এর দশকে আধুনিক ঢাকা গড়ার এক পরিকল্পনার কথা জানা যায়, সেখানে উল্লেখ ছিল ঢাকার চারপাশের নিম্নাঞ্চল ও নদী, শহরের খাল, বিল, ঝিল থাকবে যাতে করে শহরের পানি নিষ্কাশনে ব্যবহার করা যায়।

কিন্তু আশির দশকের শুরুর দিকে ব্যাপকহারে শুরু হয় অপরিকল্পিত নগরায়ন। তারপর থেকে  ২০১৮ তে এসে ঢাকার চারপাশের ফেলে রাখা জায়গায় এখন ঢাকার জলাবদ্ধতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার চারপাশের নিম্নাঞ্চল ভরাট করে ভূমিদস্যুরা দখল করে ভবন নির্মাণ করে তৈরি করছে আবাসিক এলাকা। ফলে ঢাকা শহর এখন একটা বালতিতে পরিণত হয়েছে। যার ফলাফল জলাবদ্ধতা কমার পরিবর্তে উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপাতত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকার জলাবদ্ধতার নিরসনে কোন সম্ভাবনার কথা আমাদের কাছে জানা নেই।

কমেন্টস