ছাত্রদের ৮ দফা দাবি না মানায় ৫ দিন ধরে ক্লাশ, ল্যাব বন্ধ অচল বুয়েট

প্রকাশঃ নভেম্বর ১৫, ২০১৭

খাইরুল ইসলাম 

 গত ২৭ অক্টোবর বুয়েট ও ঢাবির সার্জেন্ট জহিরুল হক হলের  ছাত্রদের সাথে সংঘর্ষের জের ধরে ২৮ অক্টোবর বুয়েট এর পাঁচ ছাত্র আহত হয়।  এর প্রেক্ষিতে বুয়েটের ছাত্ররা ৮ দফা দাবি পেশ করে । আন্দোলনরত ছাত্ররা বুয়েট প্রশাসনকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং আরও নানা বিসয়সহ প্রশাসনকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় সমাধানের জন্য। তবে কোন আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় ছাত্ররা পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ক্লাস ও ল্যাবসহ শিক্ষাকার্যক্রমে অংশগ্রহন বন্ধ করে দেয়।  

 সাধারণ শিক্ষার্থীদের  ৮দফা  দাবিগুলো ।

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কর্তৃক বুয়েটের ছাত্রদের নিপীড়িত হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে ভুল সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বুয়েট প্রশাসনকে সত্য ঘটনা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাতে হবে।

২. বুয়েট ছাত্রদের নিপীড়িত হওয়ার কারণে অবিলম্বে বুয়েট প্রশাসনের মামলা করতে হবে। সুবিচার নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মামলার তদারকি বুয়েট প্রশাসনকে করতে হবে।

৩. পলাশী এবং বকশি বাজার মোড়ে দুটি গেট নির্মাণ। এবং নিরাপত্তা প্রহরী ও সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে।

৪. গত ২৬ ও ২৭ অক্টোবর প্রশাসনের নির্বাক ভুমিকায়, সাধারণ ছাত্ররা হতাশ ও শঙ্কিত। এর যথাযথ জবাব বুয়েট প্রশাসনকে দিতে হবে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ছাত্রদের উপযুক্ত নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।

৫. বুয়েট ছাত্রদের নিপীড়নের সাথে জড়িত অভিযুক্ত সকল মাদক ব্যবসায়ী (রাজু, অর্ণব, শুভ, পাপন, নাকিব , ফয়সাল এদের উচ্ছেদ  এবং যথাযথ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৬. বুয়েট শহীদমিনার সংলগ্ন মাদকের অভয়ারণ্য ফুটওভার ব্রিজটিকে খুলে ফেলতে হবে।

৭. বুয়েটের স্টিকার ব্যতীত অন্যসব যানবাহন এই এলাকা দিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।

৮. বুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী কর্মকর্তা ও কর্মচারী ব্যতীত সকলের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করতে হবে।

তবে ১০ নভেম্বর পেরিয়ে গেলেও বুয়েটের সাধারন ছাত্রদের দাবি না মানায় তারা ৫ দিন ধরে সকল ক্লাস ও ল্যাব বর্জন করেছে।  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, ভিসি তাদের ক্লাসে ফিরে যেতে বলে তবে তাদের দাবি মেনে নেয়ায় কোন উদ্যোগ গ্রহন করে নাই। তবে ছাত্ররা শিক্ষা কার্যক্রম এ অংশগ্রহণ না করলেও ছাত্রাবাস এ অবস্থান করছে ।

এ ব্যাপারে  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বুয়েটের ছাত্র জানায়, আমাদের ছাত্ররা আহত হল তাও প্রশাসন কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি। তারা নিরব কেন । আগে এর বিচার হবে তারপর আমরা ক্লাশে ফিরে যাবো। আর আমরা এত পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন গেট নেই, এটা লজ্জার বিষয়।

এ ছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা জানান, তিন বছর ধরে আমরা গেট নির্মাণ এর কথা বলে আসছি। এটা ছাত্রলীগের দাবি ছিল এখন সাধারণ ছাত্ররা চায় গেট নির্মাণ হোক। আমি চাই খুব জলদি প্রশাসন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করবে এবং আমরা ক্লাশে ফিরে যাবো।

কমেন্টস