পুলিশের অসহযোগিতায় গ্রেফতার হচ্ছে না হত্যা চেষ্টার আসামী

প্রকাশঃ আগস্ট ১৩, ২০১৭

রাকিব বাশার, স্টাফ রিপোর্টার ঃ
রাজধানীর আদাবর থানার অদূরে শ্যামলী হাউজিংসহ কয়েকটি স্পটে প্রকাশ্যেই ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রি করেন মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে বাধা দেওয়ায় গত ২রা  আগস্ট  শহিদুল ইসলাম স্বপন (২৫) নামে এক যুবক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।
হত্যার উদ্দেশ্যে ওই যুবকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাপাতি ও হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২রা আগস্ট  বুধবার শ্যামলী হাউজিংয়ে প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রি করছিলেন মশিউর রহমান মশু ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। এলাকার কয়েকজন যুবক এতে বাধা দেওয়ায় মশুরা সরে যান। পরে তারা সশস্ত্র অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফের শ্যামলী হাউজিংয়ে যান। আট-নয়টি মোটরসাইকেলে ১৬-১৭ জন সন্ত্রাসী পিস্তল, চাপাতি, লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক, লোহার রড নিয়ে সুসজ্জিত হয়ে সেখানকার ফাইভ স্টার ইলেকট্রনিক্স নামের দোকানে যান। ওই দোকানে বসে থাকা স্বপনকে বহু মানুষের সামনে টেনে হিঁচড়ে বের করে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন। স্বপন নিস্তেজ হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মশু ওরফে গরু মশু, সুমন ওরফে ওয়ান পিস সুমন, রাকিব ওরফে বিবিসি রাকিব, শফিক, জুয়েল, মিরাজ, রাকিবসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে।
এদিকে বাদী পক্ষের অভিযোগ , আসামী গ্রেফতারে পুলিশ টালবাহানা করছে । বাদী পক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায় ,   মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা   আদাবর থানার এসআই মশিউর রহমান এই থানায় নতুন , তিনি  রাস্তা ঘাট কিছুই চিনেন না ।  বাদী পক্ষের লোকজন আসামীদের অবস্থান শনাক্ত করে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি জানান  পরদিন সকালে ব্যবস্থা নেয়া হবে ।  পর দিন তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে ( ০১৯২৫০৪২৪১৬ ) যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান তিনি ছুটিতে আছেন ।
গত ৫ই  আগস্ট  আরেক আসামীকে এলাকায় ঘুরতে দেখে আদাবর থানায়  কল করা হলে (০২৯১৩৩২৬৫)  থানা থেকে ডিউটি অফিসার এস আই সিরাজ  এর নাম্বার( ০১৫৫৩১০৬৭১২)  দেয়া হয়। বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেনি ।
প্রতিবাদি যুবক  শহিদুল ইসলাম স্বপন (২৫)  হত্যাচেষ্টার আসামীদের গ্রেফতার দাবিতে  এলাকাবাসী পোস্টার ছাপালে  পুলিশ সেই পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ এসেছে ।
আসামীদের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার ওপেন থাকা এবং ফেসবুকে সক্রিয় থাকার পরেও তাদের অবস্থান চিহ্নিত করে গ্রেফতার না করায় এলাকাবাসীর মাঝে পুলিশের প্রতি ক্ষোভ জন্মেছে ।
আসামীদের গ্রেফতার না করা ও মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কল করা হলে তিনি জানান,  মায়ের মৃত্যুজনিত কারণে তিনি ছুটিতে আছেন ।  এদিকে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহীনকে ৪বার কল করা হলেও তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন ।

Advertisement

কমেন্টস