যেভাবে যাওয়া যাবে মেঘাছন্ন সাজেক ভ্যালি

প্রকাশঃ মে ২, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে যে কয়টি পর্যটন কেন্দ্র সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম হল সাজেক ভ্যালি। মেঘে আচ্ছন্ন পর্বতশ্রেণী সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নের একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ।

সাজেক ভ্যালির অবস্থান রাঙামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে। মেঘা আচ্ছন্ন সাজেকের উত্তরে রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা , দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু , পূর্বে ভারতের মিজোরাম , পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা।

সাজেক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। সাজেকের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ‘সাজেক বিজিবি ক্যাম্প’ রয়েছে। যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উঁচুতে অবস্থিত বিজিবি ক্যাম্প। বিজিবি সদস্যদের সুষ্ঠ পরিকল্পনায়, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের দ্বারাই বর্তমান সাজেকের এই ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সাজেকে ভ্রমণরত পর্যটকদের জন্য প্রায় সকল ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় ।

সাম্প্রতিক বছর গুলোতে পাহাড়ধস বা রাস্তাধসের তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি।যার ফলে এখন সারা বছরই সাজেক যাওয়া যায়।

সাজেক রুইলুইপাড়া এবং কংলাক পাড়া এই দুটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত । ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রুইলুই পাড়ার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭২০ ফুট । আর ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কংলাক পাহাড়-এ কংলাক পাড়া অবস্থিত । সাজেকে মূলত লুসাই ,পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করে । সাজেকের কলা ও কমলা বেশ বিখ্যাত । রাঙামাটির অনেকটা অংশই দেখে যায় সাজেক ভ্যালি থেকে। তাই সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙামাটির ছাদ ।

যেভাবে যাবেন সাজেক ভ্যালি

দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে বাসে খাগড়াছড়ি। পরে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়া যায়। এছাড়া রাঙ্গামাটি থেকে নৌপথে সাজেক যাওয়া যায়। চান্দের গাড়ী ২ দিনের জন্য ভাড়া নিলে ১০ হাজার টাকার মতো লাগবে।ঢাকা থেকে সাজেক যেতে বাস ভাড়া ৫২০ টাকা, চিটাগাং থেকে ১৯০ টাকা। থাকা খাওয়া সাজেকে রয়েছে অনেক কটেজ ও হোটেল। ভাড়া পড়বে ২০০০-৩৫০০ টাকা খাবার প্রতিবেলা ২০০-২৫০ টাকা।

এছাড়া বিভিন্ন ট্যুর এজেন্সি সাজেকে প্যাকেজ ট্যুর করে থাকে। তাদের একটি বাউন্ডুলে ট্রাভেলার্স (https://www.facebook.com/groups/1748680028762916/?ref=group_header)। দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নিয়মিত ট্যুর দিয়ে থাকনে।

বাউন্ডুলে ট্রাভেলার্সের ব্যবস্থাপক বিজয় বাবুর সাথে কথা হলে জানান, বাউন্ডুলে ট্রাভেলার্সের উদ্দেশ্য হলো অল্প খচরে দেশের সব পর্যটন কেন্দ্রে ট্যুর দেয়া এবং টিম সদস্যদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া।

সময় পেলে ঘুরে আসতে পারেন মেঘাচ্ছন্ন পর্বতশ্রেণী সাজেক ভ্যালি। কাজ থেকে দেখা যাবে উপজাতিদের জীবন যাপন।

 

কমেন্টস