ইউএনও গাজী তারিক সালমনকে শোকজ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পত্র দেন জেলা প্রশাসক

প্রকাশঃ জুলাই ২৩, ২০১৭

ফাইল ছবি

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতার মামলার আগেই শোকজ করেছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক। এরপর সেই শোকজের জবাব দিলেও তা সন্তুষজনক হয়নি জানিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পত্র প্রেরণ করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার।

চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৈরি করা আমন্ত্রণপত্রে ৫ম শ্রেণির এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহৃত হয়। ওই ঘটনায় তৎকালীন আগৈলঝাড়ার ইউএনও’র (বর্তমানে বরগুনা সদরের ইউএনও) বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। মানহানির ওই মামলায় ১৭ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করে তারিক সালমনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়। এমন-কি এই ঘটনায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন।

২১ জুলাই মামলার বাদী বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদুল্লাহ সাজুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় বিচারক ও পুলিশকে নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু এবার পাওয়া গেছে ভিন্ন তথ্য। মামলারও এক মাস আগে এই ঘটনায় গাজী তারিক সালমনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন বরিশাল জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান।

ডিসি ও কমিশনারের প্রেরিত চিঠি

tariq-salmon-dc-21-7-17-1798954821

কারণ দর্শানোর নোটিশ ও ব্যবস্থা গ্রহণের চিঠি। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

৩ এপ্রিল ইস্যু করা ওই কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রকাশ করা হয়নি। কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি প্রেরণ করা হবে না, তা পরবর্তী সাত কার্য দিবসের মধ্যে জানতে চাওয়া হয়।

গাজী তারিক সালমন কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেন। কিন্তু সেই জবাবে সন্তুষ্টজনক ছিল না বলে ব্যবস্থা গ্রহণে পত্র দেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস।

১৮ এপ্রিল ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়, স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রকাশ না করার বিষয়ে আগৈলঝাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারেক সালমানকে পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে অনুরোধ করা হলে তিনি লিখিত জবাব দাখিল করেছেন। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে চিঠি প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনার পর ২৪ মে গাজী তারিক সালমনকে আগৈলঝাড়া থেকে বরগুনা সদরে বদলি করা হয়। বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদুল্লাহ সাজু ৭ জুন বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ৫ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে তারিক সালমনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেন। জুনে তারিক সালমন বরগুনা সদর উপজেলার ইউএনও পদে বদলি হন।

যে আমন্ত্রণপত্র নিয়ে বিতর্ক চলছে

tariq-uno-21-7-17-1046185159
মানহানির ওই মামলায় ১৭ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করে তারিক সালমনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। যদিও ঘণ্টা দুই পরেই পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে আদালত ২৩ জুলাই মামলার ধার্য তারিখ পর্যন্ত তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

Advertisement

কমেন্টস