চলতি বছরের শেষে জাতীয় নির্বাচন !

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

আগাম জাতীয় নির্বাচনের কথা ভাবছে সরকারের উচ্চপর্যায়। কবে বা কিভাবে এ নিরবাচন হবে তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে শোনা যাচ্ছে, সব কিছু ঠিক থাকলে এ বছর নির্বাচন হতে পারে। পশ্চিমা বিশ্ব সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক সচল রাখলেও তার মধ্যে এক ধরনের শিথিলতা রয়েছে। কূটনীতিকদের চাপে আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছে সরকার। এজন্য আওয়ামী লীগেও জাতীয় নির্বাচনের একটা ঘরোয়া প্রস্তুতি চলছে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন নেতাকর্মীদের।

 ‘জাতীয় নির্বাচনের প্রস্ততি নিন’ আগামী জাতীয় নির্বাচনের খুব বেশি দেরি নাই জানিয়ে এখন থেকেই নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্ততি নিতে বলেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

২০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রী একথা বলেন।

বিএনপিরও আন্দোলন নয় নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে। আন্দোলন নয়, সংগঠন শক্তিশালী করতে মনোযোগী হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, “এখন আন্দোলন বড় কথা নয়, এখন সংগঠন জোরদার করতে হবে। জনগণকে বুঝতে হবে, ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

“অন্যায়, দুর্নীতি, জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে। এই প্রতিবাদ হতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে।”

বিএনপিকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা উদার রাজনীতি করেন, তার নেতৃত্বে আমরা নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করবো। আপনারা (বিএনপি) প্রস্তাব দিচ্ছেন না কেন? সবার সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী নির্বাচন কমিশন আরও শক্তিশালী করা হবে।’

১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত চলমান রাজনীতি বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের স্মরণে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়।

নাসিম বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নও বলে গেছে নির্বাচনের জন্য বিএনপিকে প্রস্তুত হতে। আমরাও বলি ২০১৯ সালের জন্য প্রস্তুত হোন। হ্যা, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে কারো আপত্তি নেই। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সামনে এজন্য আলোচনা হয়েছিল, সেখানে খালেদাও ছিলেন। সে অনুযায়ী নির্বাচন হচ্ছে। তাতে আমরা যেমন জিতছি, তেমন হারছিও।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম আবদুল রব বলেন, বিদ্যমান শাসন-ব্যবস্থা দিয়ে সু-শাসন-রাজনৈতিক অধিকার-গণতান্ত্রিক অধিকার-ভোটের অধিকার কোনো কিছুই সুরক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই শাসন-ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে। জনগণের অধিকারবিহীন, ক্ষমতাবিহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা কর্তৃত্ববাদী শাসনের উদ্ভব ঘটিয়েছে। যা মুক্তিযোদ্ধের চেতনাবিরোধী। এই কর্তৃত্ববাদী শাসনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে ভবিষ্যত বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব হবে না। সুতরাং একুশ শতকের উপযোগী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে জনগণের অংশীদারিত্বভিত্তিক রাষ্ট্রীয় রাজনীতি প্রবর্তন করার লক্ষ্যে জেএসডির ১০ দফা পেশ করা হয়েছে।

১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে লক্ষ্মীপুর টাউন হল মিলনায়তনে জেএসডির কাউন্সিল উপলক্ষ্যে উন্মুক্ত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। ২৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘বিএনপির আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে দলকে সংগঠিত করা হবে। তারপর নতুন নেতাদের নিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে ইয়াহিয়া, আইয়ুব খান ও স্বৈরাচার এরশাদও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে নাই, এ সরকারও পারবে না। জনগণের শক্তিই বড় শক্তি। বিএনপি জনগণের শক্তি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

২০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি মুক্তি পরিষদ’ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

কমেন্টস