আজও চলবে মিরপুরের ‘গুপ্তধন’ সন্ধানের অভিযান

প্রকাশঃ জুলাই ২২, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্কঃ

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১৬ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে গুপ্তধন আছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বাড়িটির মাটি খোঁড়া হয়েছে। তবে পর্যন্ত কোন সন্ধান পাওয়া না গেলেও আজও খনন অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. দাদন ফকির।

গতকাল শনিবার খনন কাজ স্থগিত হলেও আজ রবিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে পৌঁছলে পুনরায় খননকাজ আবার শুরু হবে বলে জানিয়ে ওসি মো. দাদন ফকির।

জানা যায়, গতকাল শনিবার গুপ্তধন আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে খননকাজ শুরু হয়। সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ওই বাড়ির একটি রুম খোঁড়ে। তখন তল্লাশি অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সাড়ে ৪ ফুট খনন কাজ চলে। গুপ্তধনের সন্ধান পেতে ১০ থেকে ১২ ফুটের মতো খনন করা লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা।

এলাকাবাসী বলেন, শুধু লোক মুখে শুনেই যাচ্ছি যে, এই বাড়িতে গুপ্তধন আছে। কিন্তু কী আছে সেটি কেউ বলতে পাচ্ছি না। আসলেই কি আছে, নাকি পুরোটা গুজব?

বাড়িটির বর্তমান মালিক দাবিদার মনিরুল আলম বলেন, এই খোঁড়াখুঁড়িতে যদি কোনো গুপ্তধন কিংবা স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। তাহলে আমি বিধি মোতাবেক সব সরকারি বা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেবো। এমনকি খোঁড়াখুঁড়িতে যত টাকা লাগে সেটাও যদি আমাকে দিতে আমি তা দিবো।

এদিকে গতকাল খননকাজ বন্ধ করার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুজ্জামান বলেন, বাড়ির অবকাঠামো বেশ দুর্বল। মজবুত কাঠামোর ওপর এই বাড়ির ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়নি। খননকাজ করা হলে ঘরগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আজ খননকাজ বন্ধ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই ওই বাড়ির বর্তমান মালিক মনিরুল আলম তার বাড়িতে গুপ্তধন আছে বলে মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালে ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেখানে মাটি খনন শুরু হয়।

ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, গত ১০ জুলাই তৈয়ব নামের এক ব্যক্তি মিরপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করে জানান, বাড়ির নিচে একশ কেজি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। সে হিসেবে গতকাল বাড়ির নিচে খনন কাজ শুরু হয়।

ডায়েরিতে বলা হয়, বাড়ির মূল মালিক দিলশাদ খান। তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান চলে যান। দিলশানের দূরসম্পর্কের আত্মীয় সৈয়দ আলম তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আলমও পাকিস্তানে থাকেন। মাঝে মধ্যে দেশে আসেন। বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। আলম তাকে তথ্য দেন, মিরপুরের ওই বাড়িটির নিচে দুই মণের বেশি স্বর্ণালঙ্কার ও দামি জিনিসপত্র রয়েছে। পাকিস্তানে থাকাকালে আলমকে ওই তথ্য দেন দিলশাদ। এরপর আলমকে নিয়ে তৈয়ব মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা এ সম্পদ দখলে নিতে টেকনাফ থেকে ঢাকায় আসেন।

ঢাকায় আসার পর তৈয়বকে আড়ালে রেখে গোপনে বাড়িটির বর্তমান মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আলম। তারা মাটির নিচের সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করেন। বিষয়টি টের টেয়ে তিনি মনিরুল পূর্ব পরিচিত রাবেয়া চৌধুরী নামে এক নারীকে নিয়ে থানায় যান। তারা বিষয়টি জানিয়ে জিডি করার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে, গুপ্তধন বের করা হচ্ছে এমন খবরে বাড়িটি ঘিরে ভিড় জমিয়েছে উৎসুক মানুষ। আশপাশের বাসার জানালা দিয়ে অনেকে তাকিয়ে আছেন বাড়িটির দিকে।

গত ১০ জুলাই থেকে গুঞ্জন ছড়ায়, ওই একতলা বাড়ির মাটির নিচে স্বর্ণালঙ্কার, দামি মূর্তি, কষ্টি-পাথর আরও অনেক মহা মূল্যবান গুপ্তধন রয়েছে। গুঞ্জনের সত্যতা আরও বেড়ে যায় যখন পুলিশ দিনরাত বাড়িটি পাহারা দেয়া শুরু করে। এরপর গত ১৩ জুলাই বাড়ির আরেক মালিক দাবিদার মনিরুল আলম মিরপুর থানায় একটি জিডি করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তার বাসার মাটির নিচে গুপ্তধন রয়েছে বলে এলাকার লোকজনের মধ্যে জনশ্রুতি রয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফফির বলেন, ‘বাড়ির মালিক দাবিদার তৈয়বের দায়ের করা জিডির পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। ওনাকে (ম্যাজিস্ট্রেটকে) সঙ্গে নিয়ে ঘরের দুটি কক্ষে খনন কাজ চলছে। ঘরে ৬টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে দুটিতে খনন চলছে। পর্যায়ক্রমে সবকটি কক্ষই খনন করা হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বাড়িটি খোঁড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।’

কমেন্টস