মিরপুরে বাড়ির নিচে ৮০ কেজিরও বেশি স্বর্ণালঙ্কার, খননকাজ স্থগিত

প্রকাশঃ জুলাই ২১, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

রাজধানীর মিরপুরের একটি বাড়িতে গুপ্তধন আছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটিতে চালানো খনন কাজ আজকের মতো স্থগিত করা হয়েছে।

আগামিকাল রবিবার আবার নির্ধারিত সময়ে পুনরায় খননকাজ শুরু করবে মিরপুর থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সকাল থেকে চলমান অভিযানে আজ বিকাল চারটা পর্যন্ত ২টা রুমের প্রায় ৫ ফিট খনন করা সম্ভব হয়েছে। বাড়িটির গঠনকার্য দুর্বল সেজন্য আগামীকাল আবার নির্ধারিত সময়ে আধুনিক টেকনিক্যাল টিম দিয়ে পুনরায় খননকার্য শুরু করা হবে।

এর আগে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে  ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে খনন কাজ শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ।

মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১৬ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বরের এই বাড়িটি দুই কাঠা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে বাড়িতে কোনো ভাড়াটিয়া নেই। বাড়িটির আগের মালিক ছিলেন একজন পাকিস্তানি। তার দেয়া তথ্যমতে, সেখানে গুপ্তধন আছে বলে জানতে পারেন বাড়ির বর্তমান মালিক মনিরুল আলম।

বিষয়টি জানিয়ে গত ১৪ জুলাই তিনি মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সকালে ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেখানে মাটি খনন শুরু হয়।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, গত ১০ জুলাই তৈয়ব নামের এক ব্যক্তি মিরপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করে জানান, বাড়ির নিচে একশ কেজি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। সে হিসেবে আজ বাড়ির নিচে খনন কাজ শুরু হয়েছে।

এই ডায়েরিতে বলা হয়, বাড়ির মূল মালিক দিলশাদ খান। তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান চলে যান। দিলশানের দূরসম্পর্কের আত্মীয় সৈয়দ আলম তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আলমও পাকিস্তানে থাকেন। মাঝে মধ্যে দেশে আসেন। বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। আলম তাকে তথ্য দেন, মিরপুরের ওই বাড়িটির নিচে দুই মণের বেশি স্বর্ণালঙ্কার ও দামি জিনিসপত্র রয়েছে। পাকিস্তানে থাকাকালে আলমকে ওই তথ্য দেন দিলশাদ। এরপর আলমকে নিয়ে তৈয়ব মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা এ সম্পদ দখলে নিতে টেকনাফ থেকে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় আসার পর তৈয়বকে আড়ালে রেখে গোপনে বাড়িটির বর্তমান মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আলম। তারা মাটির নিচের সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করেন। বিষয়টি টের টেয়ে তিনি মনিরুল পূর্ব পরিচিত রাবেয়া চৌধুরী নামে এক নারীকে নিয়ে থানায় যান। তারা বিষয়টি জানিয়ে জিডি করার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে, গুপ্তধন বের করা হচ্ছে এমন খবরে বাড়িটি ঘিরে ভিড় জমিয়েছে উৎসুক মানুষ। আশপাশের বাসার জানালা দিয়ে অনেকে তাকিয়ে আছেন বাড়িটির দিকে।

গত ১০ জুলাই থেকে গুঞ্জন ছড়ায়, ওই একতলা বাড়ির মাটির নিচে স্বর্ণালঙ্কার, দামি মূর্তি, কষ্টি-পাথর আরও অনেক মহা মূল্যবান গুপ্তধন রয়েছে। গুঞ্জনের সত্যতা আরও বেড়ে যায় যখন পুলিশ দিনরাত বাড়িটি পাহারা দেয়া শুরু করে। এরপর গত ১৩ জুলাই বাড়ির আরেক মালিক দাবিদার মনিরুল আলম মিরপুর থানায় একটি জিডি করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তার বাসার মাটির নিচে গুপ্তধন রয়েছে বলে এলাকার লোকজনের মধ্যে জনশ্রুতি রয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফফির বলেন, ‘বাড়ির মালিক দাবিদার তৈয়বের দায়ের করা জিডির পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। ওনাকে সঙ্গে নিয়ে ঘরের দুটি কক্ষে খনন কাজ চালানো হচ্ছে।

গুপ্তধনের গুজব ছড়ানোর ব্যাপারে মিরপুর মডেল থানার ওসি দাদন ফকির জানান, খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করছি। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

কমেন্টস