আগামীকাল থেকে কমবে তাপমাত্রা, হতে পারে বৃষ্টি

প্রকাশঃ জুলাই ২০, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

সারাদেশে সূর্যের তীব্র তাপে নাজেহাল সকল মানুষ। শ্রাবণের গত কয়েক দিনের তীব্র দাবদাহে ও কাঠফাটা রোদে অস্বস্তির মাত্রা আরও বেড়ে গেছে।

বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকে বৃষ্টিমুখর পরিবেশ থাকায় সকলের ভাবনাটা ছিল অন্যরকম। স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হওয়ায় সকলে ধারণা করেছিল এবার বর্ষা অনেক আগে হবে। তবে সকলের চিন্তা ভাবনা এলোমেলো হয়েছে এই তীব্র গরমে।

আবহাওয়া অধিদফতর থেকে আবহাওয়াবীদ মোহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, দাবদাহ আজকের দিন থাকবে তবে আগামীকাল থেকে অনেকটাই কমে যাবে। কিন্তু দক্ষিণে তাপমাত্রা যেভাবে আছে, সেভাবেই থাকবে। মধ্যাঞ্চল থেকে দেশের উত্তরপশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা কমবে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, এক সপ্তাহ ধরে রাজধানীতে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা থাকছে। ফলে গরম বেড়ে গেছে। শুক্রবার থেকে তাপমাত্রা কমলেও অস্বস্তি ঘুচবে না। শনিবারের পর থেকে বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে পারে।

আবহাওয়াবীদরা বলেন, মৌসুমি বায়ু কিছুটা দুর্বল থাকায় দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে বৃষ্টি কমে গেছে। রবিবার পর্যন্ত এ ধরনের তপ্ত আবহাওয়া থাকতে পারে। এরপর বর্ষার স্বাভাবিক বৃষ্টি শুরু হবে। ফলে গরম কমে আসবে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি হলেও কয়েকদিনের মধ্যে অঝোরধারায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানিয়েছে, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলসহ সন্দ্বীপ ও সীতাকুণ্ডের কোথাও কোথাও এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কমেও যেতে পারে।

জানা  যায়,  বর্ষাকালে টানা কয়েক দিন বৃষ্টি না হওয়ায় আর তীব্র তাপমাত্রায় সকলের বেহাল অবস্থা। আবহাওয়া অধিদফতরের মতে টানা কয়েক দিন বৃষ্টি না হওয়ার কারণে তাপমাত্রা আরও বেড়ে গেছে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে ওপরের দিকে (স্থলভাগে) বৃষ্টি হচ্ছে না বলেও জানান তারা।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘু চাপটি সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত এই লঘুচাপ মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে একীভূত হয়েছে।

মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উড়িষ্যা, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং তা উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান রয়েছে।

এদিকে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় তীব্র গরমে শরীর থেকে ঘাম ঝরছে এবং মানুষের অস্বস্তি লাগছে। অতিরিক্ত গরমে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। অতিরিক্ত গরমে দৈনন্দিন জীবনে মানুষের কাজ কর্ম অনেকটাই বিঘ্নিত হচ্ছে।

কমেন্টস