এবার বঙ্গবন্ধু ২ স্যাটেলাইট তৈরির প্রস্তুতি শুরু

প্রকাশঃ জুন ৬, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

‘একটি থাকতে থাকতে আরেকটি যেন চালু করা যায়, সেটি মাথায় রেখেই আমরা কাজ শুরু করেছি।’ আজ বুধবার সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইটের মালিকানা বাংলাদেশের জানিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ২ স্যাটেলাইট তৈরির প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। কারণ একটি স্যাটেলাইটের আয়ুষ্কাল ১৫ বছর। আর একটি স্যাটেলাইট তৈরিতে ৫-৬ বছর লেগে যায়। সেজন্য এখন থেকেই বঙ্গবন্ধু ২ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছি।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন সরকারদলীয় সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে দেশ-বিদেশের সব বাঙালি খুশিতে উদ্বেলিত। সবার চোখে আনন্দ অশ্রু। সব মানুষ যখন এত খুশি, তখন বিএনপির কেন দুঃখ। পৃথিবীর অনেক দেশ আমাদের অনেক আগেই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। আমরা কেন পারলাম না?’

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের টাইম শেষ হয়ে এলে আমরা বঙ্গবন্ধু ৩ তৈরি করবো। এভাবে পর্যায়ক্রমে আমাদের ধারাবাহিকতা চালিয়ে যাবো।’ তিনি বলেন, ‘যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাই। যখন যে প্রযুক্তি আসবে সেটা যেন আমরা গবেষণা, ধারণ ও ব্যবহার করতে পারি সেই ব্যবস্থা নেবো।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এই স্যাটেলাইটের মালিকানা বাংলাদেশের, বাংলাদেশ সরকারের। যাদের দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ন্যূনতম ভালোবাসা নেই, দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারাই (বিএনপি) অর্বাচীনের মতো স্যাটেলাইটের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।’

ভারত সফরকালে তিস্তা ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য  নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘না বলা কথাটি রবে না গোপনে’।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সমুদ্রের তলদেশ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত জয় করে বাংলাদেশ এখন উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। কিন্তু ৭৫ পরবর্তী দীর্ঘদিন যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা স্যাটেলাইট নির্মাণের কোনো  উদ্যোগ গ্রহণ করেননি কেন? এদের (খালেদা জিয়া) চিন্তা এতো সংকীর্ণ ছিল যে, সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ বিনা পয়সায় দেওয়া হচ্ছিল, তা নেয়নি বিএনপি সরকার। তখন বিএনপি সরকারের কথা ছিল, সাবমেরিন সংযোগ নিলে নাকি সব তথ্য পাচার হয়ে যাবে! আমার প্রশ্ন, বিএনপির কাছে কী এমন গোপন তথ্য থাকে যা ফাঁসের ভয়ে তারা দেশকে সারাবিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল?’ একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই ক্ষমতায় এসে নতুন প্রজন্মের জন্য তথ্য-প্রযুক্তির দ্বার উম্মোচন করে দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল, স্বনির্ভর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট যোগাযোগের সূচনা করে। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব আহমেদ জয়ের উদ্যোগে মহাশূন্যে  বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ উৎক্ষেপণের পদক্ষেপ গ্রহণ করি। স্বপ্নের স্যাটেলাইট নির্মাণ ও এর সফল উৎক্ষেপণে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। মহাকাশে আজ বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে। এ গৌরব আমাদের সরকারের, এ গৌরব দেশের ১৬ কোটি মানুষের।’

একই প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ আওয়ামী লীগ সরকারের গতিশীল উন্নয়নের ধারাবাহিকতার একটি অংশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার আরেকটি স্বপ্ন পূরণ হলো। স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করল এক এলিট ক্লাবে। নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক দেশগুলোর এই ক্লাবে বাংলাদেশ ৫৭তম সদস্য। স্থল ও জলসীমা জয়ের পর মহাকাশ জয় ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘ যাত্রা। দীর্ঘ ছয় বছরের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে স্যাটেলাইট ১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ জয় সম্ভব হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘স্যাটেলাইট টেকনোলজি ও সেবার প্রসারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মস্থান সৃষ্টি করবে। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবার পাশাপাশি টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-এডুকেশন, ডিটিএইচ, ভিস্যাট প্রভৃতি সেবা প্রদান করবে। দুর্গম অঞ্চলসহ সমগ্র বাংলাদেশের স্থল ও জলসীমায় নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার নিশ্চিত হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বহাল রাখা হবে।

স্যাটেলাইট ১ এ ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে ২০টি বাংলাদেশের জন্য এবং ২০টি ট্রান্সপন্ডার লিজ দেওয়া যাবে। ট্রান্সপন্ডার লিজ দিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। বিদেশি  স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বর্তমানে প্রদেয় বার্ষিক প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। স্যাটেলাইট ১ এর কাভারেজভুক্ত এলাকা হলো বাংলাদেশসহ সকল সার্কভুক্ত দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, তুর্কমেনিস্তান, কাজাখিস্তান এবং উজবেকিস্তান। স্পেস টেকনোলজির জ্ঞান সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল জাতি গঠনে অনবদ্য ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১।

কমেন্টস