দুটি পত্রিকা আমি পড়িও না, গণভবনে ঢুকতেও দিই না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশঃ মে ১৭, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

সরকারের সমালোচনা না করলে প্রচার বাড়বে না, এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পত্রিকা-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের ৩৭ বছর পেরোলেও বেশির ভাগ গণমাধ্যমের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পায়নি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পত্রিকার নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, দুটি পত্রিকা আমি পড়িও না, রাখিও না। আমার গণভবনে ঢুকতেও দিই না। দরকার নেই আমার। কাজের মধ্য দিয়েই জনগণই জেনে নেবে। কাজের মাধ্যমেই আমি থাকব। আওয়ামী লীগ থাকলে কী হয় আর না থাকলে কী হয়, তা দেশের মানুষ বোঝে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কত পত্রিকা আমাদের বিরুদ্ধে লিখেছিল, কিন্তু কী দুর্নীতি প্রমাণ করতে পেরেছে? যারা এসব কথা লিখেছে, তাদের কী করা উচিত? এটাই কি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা? আমি বলেছিলাম, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, তা প্রমাণ করতে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রমাণ করতে পারেনি। কানাডার ফেডারেল কোর্ট বলেছে, এসব বানোয়াট।’

তিনি বলেন, ‘কোনো সাংবাদিক যদি হয়রানি করার মতো কিছু না করে থাকে তাহলে তাকে কেন হয়রানি করা হবে? সাধারণত সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগ কখনো হয়রানি করে না। আমাদের বিরুদ্ধে তো সমালোচনা চলছেই।  সমস্ত পত্রিকা এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যেগুলো আছে তার একটা হিসেব প্রতি ১৫ দিনে সংগ্রহ করে দেখেছি, আমরা সরকারে আছি, আমাদের বিরুদ্ধে নেগেটিভ কথাটাই বেশি। পজেটিভ কথা বা হেডলাইন খুব কমই থাকে। প্রতি ১৫ দিন পর পর এর একটি হিসেব আমরা সংগ্রহ করি।’

‘একটা মানসিক ব্যাধি আছে আমাদের দেশে, অনেকের ধারণা সরকারের বিরুদ্ধে না বললে বুঝি মিডিয়া চলবেই না। এই মানসিক ব্যাধি থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে’ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারো কাছে দয়া দাক্ষিণ্য চাই না, আমরা কারো ফেবার চাই না, কিন্তু অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি যে দেশের জন্য যদি কোনো ভালো কাজ করে থাকি সেটা যেন একটু ভালোভাবে প্রচার করা হয়। অন্তত এইটুকু করা হোক। এটা আমার স্বার্থে না, আমার দলের স্বার্থে না, এটা দেশের স্বার্থে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ভাবমূর্তি বাইরে যাতে আরও উজ্জ্বল হয়, মানুষ যে সুযোগ সুবিধাগুলো পাচ্ছে, সেটা যেন মানুষ যথাযথভাবে জানতে পারে সেদিকটায় সকলেরই কাজ করা উচিত। কারণ আত্মবিশ্বাস যদি না থাকে, আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যদি না থাকে, তাহলে সেই দেশটিকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো কিভাবে।’

২০৪১ সালে বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চান, সে পরিকল্পনার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষ নাগরিক সুবিধা ভোগ করবে এমন পরিকল্পনা করছেন বলে জানান। আর এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

নবম ওয়েজ বোর্ডের যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে তা সাংবাদিক মহলের করা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রতিবন্ধকতা আমাদের সৃষ্টি নয়। এটা কে করছে আপনারাই দেখবেন। আমরা চাই এটা তাড়াতাড়ি কার্যকর হোক।’

কমেন্টস