ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট লাগাচ্ছে কারা ?

প্রকাশঃ মে ১৬, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

আজ বুধবার সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা থেকে ঢাকা পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে চলমান বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কজুড়ে যানজটে অসহনীয় যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে যানবাহনের যাত্রীদের। বিশেষ করে দাউদকান্দির টোল প্লাজা থেকে শুরু হওয়া এই যানজট একেবারে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ছাড়িয়েছে। কুমিল্লা থেকে ঢাকা পৌঁছ‍াতে যেখানে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা, সেখানে গত কয়েকদিন ধরে সময় লাগছে আট থেকে নয় ঘণ্টা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনে চলা যানবাহনগুলোর জন্য ব্রিজে রয়েছে দুই লেন। ফলে ব্রিজে ওঠার সময়ই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে। আর এতে ভোগান্তিতে পড়ছে রোগী, যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলো।

এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজ থেকে কুমিল্লার চান্দিনার মাধাইয়া পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার অংশে যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এছাড়া কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে চান্দিনার মাধাইয়া পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশে যানজট রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চান্দিনার মাধাইয়া, দাউদকান্দির গৌরিপুর, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া, মদনপুর এলাকায় অসংখ্য যানবাহন আটকে আছে। গোমতী ও মেঘনা সেতু টোলপ্লাজায় ওজন স্কেলে একটি মালবাহী যানবাহন কমপক্ষে ১০/১৫ মিনিট আটকে রাখা হয়। সেখানে ট্রাক চালক ও হেলপারের সঙ্গে টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষের টাকা নিয়ে বাক-বিতণ্ডার চিত্র নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। টোলপ্লাজায় মালবাহী যানবাহন আসা মানেই দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে টোলপ্লাজার কর্মকর্তাদের। এ টাকার লেনদেন নিয়ে অনেক সময় অতিবাহিত হয়। ফলে টোলপ্লাজাগুলোতে মালবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনের ভিড় জমতে থাকে। এতে টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষের সৃষ্টি কৃত্রিম যানজটে নাকাল হয় যানবাহন ও যাত্রীরা।

মদনপুর এলাকায় যানজটে আটকা থাকা ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী এক যাত্রী বলেন, চার লেন মহাসড়ক এখন গলার কাঁটা। এক জায়গায় আড়াই ঘণ্টা আটকে আছি। টোলপ্লাজার কর্মকর্তাদের দুর্নীতি বন্ধ না হলে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীরা দিনের পর দিন এ ভোগান্তি নিয়েই চলাচল করতে হবে।

কুমিল্লা রিজিয়ন হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার সফিকুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ির অতিরিক্ত চাপ আর টোল প্লাজায় ধীরগতিই যানজটের মূল কারণ। তবে হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ট্রাফিক পরিদর্শক তাসলিম হোসেন জানান, কাঁচপুর ও মেঘনা সেতুতে আলাদা দুটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় যানজটের কারণ। তিনি বলেন, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং কাঁচপুর থেকে নরসিংদীর পাঁচদোনা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিকল যানবাহন দুটি সরানো হলে মহাসড়কে যানবাহন ধীরে ধীরে চলতে শুরু করে। তবে এই মহাসড়ক দুটিতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে বিকেল গড়াবে বলে জানান ট্রাফিক কর্মকর্তা।

মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ আর টোলপ্লাজায় ধীরগতির কারণে যানজট নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে জানান দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, যানজট নিরসনে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

কমেন্টস