Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

'প্রশাসন বলে চলে যেতে, কিন্তু কোথায় যাব সেটা বলে না'

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০৬:৫২ PM আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০৬:৫২ PM

bdmorning Image Preview


সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানে পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে হাজারো পরিবার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পূণর্বাসনের অভাবে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে নারাজ পাহাড়ে বসবাসকারী এসব বাসিন্দা। আর এসব ঝুকিপূর্ণ বসতির কারণে প্রতিবছর বর্ষা আসলে পাহাড় ধ্বসে ঘটে ব্যাপক প্রাণ হানির ঘটনা। তাই পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বসবাসকারী পরিবার গূলোকে পূণর্বাসন করা না হলে এ বর্ষায় আবারো ঘটতে পারে অতীতের মত ব্যাপক প্রাণহানির মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

বান্দরবানে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে প্রায় ১০ হাজারেরও অধিক মানুষ। এর মধ্যে শুধু জেলা সদরের লাঙ্গিপাড়া, ইসলামপুর, কাশেমপাড়া, সিদ্দিকনগর, কালাঘাটা, বালাঘাটায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে প্রায় ৭০০ পরিবার।

প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে এসব এলাকায় পাহাড় ধ্বসে ঘটে প্রাণহানীর ঘটনা। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পাহাড় ধ্বসে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় ৮৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের বেশীর ভাগই দিনমজুর খেটে খাওয়া সহায়সম্বলহীন মানুষ। অল্প টাকায় পাহাড় কিনে টিন ও কাঠের বসতি গড়ে মাথা গোজার ঠাঁই করে তারা। তাই প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নিজের ভিটে মাটি ছেড়ে অন্যত্র যেতে নারাজ পাহাড়ে বসবাসকারী এসব বাসিন্দারা।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী লাঙ্গী পাড়ার আমেনা খাতুন জানায়, আমরা কই যাব, আমাদের থাকার কোন জায়গা নাই। যদি সরকারের পক্ষ থেকে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে আমরা পাহাড় ছেড়ে পুনর্বাসিত এলাকায় চলে যাব।

অন্যদিকে ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত কালাঘাটার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, মরতে কে চায়, আমরাও চাই না। প্রশাসন খালী বলে চলে যেতে। কিন্তু কোথায় যাব সেটা বলে না। আমাদেরকে যদি থাকার জায়গা করে দে তাহলে আমরা সে স্থানে চলে যাব।

এসব ঝুকিঁপূর্ণ জায়গায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পূর্ণবাসন করা না হলে বর্ষায় আবারো পাহাড় ধ্বসে মর্মান্তিক দূর্ঘটনার সম্মূখীন হবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

বান্দরবান বন ও ভূমি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি জুয়ামলিয়ান আমলাই বলেন, বর্ষার আগে যদি এসব ঝুকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়া না হয় তাহলে বর্ষার মৌসুমে বড় ধরনের প্রাণ হানীর ঘটনা ঘটনার আশংকা রয়েছে। তাই প্রশাসনের উচিৎ এসব ঝুকিপূর্ণ বসবাসকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দ্রুত বর্ষার আগে অন্যত্রে সরিয়ে নেয়া।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন বলেন, ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষের যান মালের নিরাপত্তার জন্য ক্ষণস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র নির্মানের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করে ঝুকিতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়া হবে।

Bootstrap Image Preview