৩ বছর ধরে নিজ মেয়েকে ধর্ষণ, কারাগারে বাবা

প্রকাশঃ এপ্রিল ২০, ২০১৮

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় টানা তিন বছর ধরে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের পর অবশেষে লোকজনের কাছে ধরা পড়ে কারাগারে গেল পিতা আব্দুস সামাদ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়মের কাপাসিয়া পাড়া গ্রামে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জোর করে নিজ বাড়িতে আবারও ধর্ষণ করতে গিয়ে মেয়ে রাজি না হওয়াতে চিৎকার করলে স্থানীয়রা জানতে পেরে আব্দুস সামাদকে ধরে বেধড়ক মারপিট করে। পরে পুলিশকে খবর দিলে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে গোদাগাড়ী মডেল থানায় নিয়ে আসে।

লম্পট ধর্ষক আব্দুস সামাদের সাথে কথা হলে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে বলেন, ২ বছরের অধিক সময় ধরে আমাদের এই কাজ হয়ে আসছে। আমি নেশাগ্রস্ত, সকল ধরনের নেশা করি। নিজের স্ত্রী সন্তান আছে তবুও বাড়িতে ফাঁকা পেলেই আমি একাজ করি। স্ত্রীর সাথে ভালো সম্পর্ক না থাকায় আমার স্ত্রী কাজের জন্য বাইরে চলে গেলে একাজ করতাম।

তবে তিনি বলেন জোর করে না স্বেচ্ছায় মেয়ের সাথে এমন মেলামেশা করে আসছি।

পিতার ধর্ষণের শিকার মেয়ে সাথে কথা বললে সে জানায়, তিন বছর ধরে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমার পিতা এ জঘন্য কাজ করে আসছে। আমি রাজি না হলে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি। তিন মাস আগে আমার পিতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে একটি মেসে কাজ দিয়ে রেখে আসে। আর সেখানে বাসা ভাড়া করে দিয়েছিলো থাকার জন্য। সেখানে নিরিবিলি জোর করে এ অনৈতিক কাজ করতো। গত বুধবার আমি সেখান থেকে পালিয়ে আসি। এরপর সে আমাদের বাড়িতে এসে আবারও জোর করে এই নির্যাতন করতে চাইছিলো, আমি তাতে বাঁধা দিলে মারধর শুরু করে। আমি নিজেকে বাঁচানোর জন্য চিৎকার করলে লোকজন এসে উদ্ধার করে।

তবে মেয়ে বলেন, আমি আমার বিচার পাবার জন্য মামলা দায়ের করবো।

গোদাগাড়ী মডেল থানার এসআই নাইমুল হক বলেন, মেয়ে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে তারপর জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।

কমেন্টস