পটুয়াখালীতে টার্কি পালনে বাড়ছে জনপ্রিয়তা

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৭, ২০১৮

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

দ্রুত বর্ধনশীল, কম খরচে ঝামেলাহীন লালন-পালনসহ ক্রেতা চাহিদা তৈরি হওয়ায় পটুয়াখালীতে দিনদিন বাড়ছে টার্কি পালনের জনপ্রিয়তা। অল্প পুজিতে একটি আদর্শ খামার করতে পারায় অনেকেই গড়ে তুলেছেন টার্কি খামার। দেখতে সুন্দর ও শোভা বর্ধনকারী হওয়ায় বাসা-বাড়িতে পালনেও বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা। অল্পদিনেই পুঁজিসহ লাভের মুখ দেখায় খামারিরা পাচ্ছেন সাফল্য। তবে প্রশিক্ষনসহ প্রনোদনা পেলে নতুন জাতের টার্কি মুরগী পালন পোল্ট্রি শিল্পে আনবে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। এমন ধারনা সংশ্লিস্টদের।

মেলিয়াগ্রিডিডিই পরিবারের বড় আকৃতির পাখি টার্কি। এটি দেখতে মুরগীর মত হলেও আকারে অনেক বড়।গৃহপালিত পাখি হিসাবে এটি খুব দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে খাপখাইয়ে নিতে পারে। পালনের জন্য উন্নত অবকাঠামো এবং তৃনভোজী হওয়ায় দিনদিন পটুয়াখালীতে বাড়ছে এর পালন। খাবার খরচ কম, রোগবালাই কম থাকাসহ দ্রুত বর্ধনশীল এ মুরগী খামার গড়ে তুলছেন অনেকেই। খরচের তুলনায় অধিক লাভ হওয়ায় অনেকেই খুচে পেয়েছেন আর্থিক সাফল্য ও সাবলম্বীতা। চঞ্চল প্রকৃতির, আদর প্রিয় আর দেখতে সুন্দর হওয়ায় বাসা-বাড়িতেও শখের বসে পালন করছেন অনেকেই।

কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের সোলায়মান শখের বসে ২৩ হাজার পাচঁশ’ টাকায় দুই জোড়া টার্কি কিনে পালন শুরু করেন। বছর ঘুরতেই তার এ শখের পালন হয়ে ওঠে ছোট এক বানিজ্যিক খামার। ইতোমধ্যে তার খামারে স্থান পেয়েছে প্রচলিত অপ্রচলিত কয়েক জাতের দুইশত টার্কি। তার দেখাদেখি অনেকেই আগ্রহী হয়ে নেমেছেন টার্কি পালনে।

সোলায়মান জানান, বছর কয়েক আগে টিভিতে দেখে শখের বসে সাতক্ষীরা থেকে দুই জোড়া টার্কি ক্রয় করে পালন শুরু করেন। আলাদাভাবে কোন খাবারের প্রয়োজন হয় না। দেশি পোল্ট্রি প্রজাতির মত স্বাভাবিক খাবার খেয়ে থাকে। একটি টার্কি মুরগি ২৫ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। প্রতি জোড়া ডিম বিক্রি হয় ৪০০ শ’ টাকায়। এছাড়া ডিম ফুটিয়ে মাত্র ৫ দিনের বাচ্চা জোড়া প্রতি এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বছরের মাথায় প্রায় দুইলক্ষ টাকা বিক্রি করেছেন। টার্কি পালনে ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ লাভজনক হওয়ায় তার দেখাদেখি অনেকেই বানিজ্যিকভাবে শুরু করেছেন টার্কি পালন।

সোলামামান আরো জানান, পুঁজি সংকটের কারণে ব্যাপকভাবে খামার প্রস্তুত করতে না পারায় ক্রেতার চাহিদানুযায়ী টার্কি সরবারহ করতে পারছেন না। ফলে অনেক সময় দুর দুরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে খালি হাতে ফিরে যায়। তবে আর্থিক প্রনোদনাসহ সহযোগিতা পেলে বছরে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করা যেত বলে তিনি জানান।

কলাপাড়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, টার্কি পাখির মাংস পুষ্টিকর, সুস্বাদু। তবে এ বৃহৎ পাখি সম্মন্ধে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ মন্ত্রালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোন ধারনা আমাদের দেয়া হয়নি। তবে টার্কি জাত এদেশে সঠিক পরিচর্য়ার মাধ্যমে লালন পালন করতে পারলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

কমেন্টস