সাফারী পার্কে প্রাণীর খাবারের জন্য খোরগোশের বাচ্চা আমদানি

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৬, ২০১৮

এস.এইচ.সানি, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে বাঘ, সিংহ, ভালুক ও অজগরের খাবারের চাহিদা মিটাতে বেলজিয়াম থেকে উন্নত প্রজাতির ফ্লেমিস জায়ান্ট খরগোশের বাচ্চা আমদানী করা হয়েছে। এ জাতীয় খরগোশ বছরে আট থেকে দশ-বার বাচ্চা প্রসব করে। দেশের কোন পার্কে এটাই প্রথম এ ধরনের খরগোশ আমদানী।

পার্কের প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলম জানান, প্রতি শুক্রবার বাঘ, সিংহ, ভালুক ও অজগর সাপকে খরগোশ খেতে দেওয়া হয়। এদের খাবারের জন্য ৩০/৪০টি (৭০-৮০ কেজি) খরগোশের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে ঠিকাদারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন খামার থেকে দেশীয় প্রজাতির খরগোশ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। পার্কের নিজস্ব পরিবেশে বেলজিয়াম থেকে আনা খরগোশ লালন-পালন করে প্রতি মাসে ৩-৪ লাখ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। তাই বেলজিয়াম থেকে ৩-৬ মাস বয়সী ৫-৮ কেজি ওজনের ৬টি উন্নত প্রজাতির ফ্লেমিস জায়ান্ট জাতের খরগোশের বাচ্চা আনা হয়েছে।

প্রজননের ২৫-৩০ দিন পর পরেই বাচ্চা দেয়। প্রতিবার ৩-৫টি করে বাচ্চা দেয়। বছরে ৮-১০ বার বাচ্চা দেয়। এক বছরে এ খরগোশের ওজন হয় ১২-১৪ কেজি। আবদ্ধ পরিবেশে এরা ৫-৬ বছর বেঁচে থাকে। প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা আরও কম বাঁচে। পার্কের উয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার মোঃ সারোয়ার হোসেন জানান,  এরা শীতল পরিবেশের প্রাণী হলেও আমাদের বাঁচিয়ে রাখার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এদের খাবার হিসেবে রয়েছে গাজর, মুলা, কুচি ভুট্টা, বাদাম, ছোলা, বরবটি ও নাশপাতি দেওয়া হচ্ছে।

প্রতি শুক্রবার এখানকার পুনঃবয়স্ত বাঘ, সিংহ, ভালুক ও অজগরকে দুই-তিন কেজি ওজনের জ্যান্ত খরগোশ খেতে দেওয়া হয়। আর অপ্রাপ্ত বয়ষ্কদের বেলায় আধা-এক কেজি ওজনের খরগোশ খেতে দেওয়া হয়। অন্যান্য দিন প্রতিদিন পুনবয়ষ্ক প্রাণীদের পাঁচ কেজি করে গরুর মাংস খেতে দেওয়া হয়। তবে সাদা সিংহকে দেওয়া হয় ৬ কেজি করে গরুর মাংস। বর্তমানে পার্কে ২৪টি সিংহ, ১৪টি ভালুক, ৯টি অজগর সাপ ও ৯টি বাঘ রয়েছে।

কমেন্টস