আকাশ থেকে মাটিতে নেমেছে ইলিশ

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৬, ২০১৮

রায়হান শোভন।।

পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হয়েছে উচ্চমুল্য। ইলিশের বাজারে পহেলা বৈশাখের পরে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। দু’দিন আগে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া ইলিশ আজ বিক্রি হচ্ছে প্রায় পানির দামে।

এর আগে দেখা গেছে, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের বাজারে বইছে বৈশাখী ঝড়।বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলিশের সরবারাহ থাকার পরও কোনো কারণ ছাড়াই উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। পহেলা বৈশাখের আগের দিন বড় আকারের এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় ৪ থেকে  ৫ হাজার টাকায়।

আজ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকাশ থেকে মাটিতে নেমেছে ইলিশের দাম। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাড়তি দামে বিক্রি হওয়া ইলিশ আজ বিক্রি হচ্ছে ৮’শ থেকে ১২’শ টাকায়। তবে ক্রেতাদের আগ্রহ নেই ইলিশে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান বিডিমর্নিংকে বলেন, বৈশাখ শেষ তাই ইলিশের দাম কমেছে। বৈশাখের সময় ভালো দামে ইলিশ মাছ বিক্রি হলেও  বর্তমানে ক্রেতারা কম দামেও কিনছেন না ইলিশ।

এ বিষয়ে ক্রেতা আমিনুল ইসলাম বিডিমর্নিংকে বলেন, বাজারে এখন যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তা সবই হিমাগারে রাখা ইলিশ। ইমাগারে রাখা ইলিশে কোনো স্বাদই পাওয়া যায় না। তাই কম দাম হওয়া সত্বেও ইলিশ কেনার আগ্রহ নেই।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ টাকায়, পটলের দাম ৪০ টাকায়,প্রতি কেজি কাচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়,  লাউ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, প্রতি হালি কাচা কলা ৩০ টাকায়, গাজর ৩০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, শিম প্রতি কেজি ৫০ টাকা, পেপে ৩০ টাকা, লতি ৬০ টাকা কেজি, চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, দেশি রসুন ৬০ টাকায়, বরবটি ৬০ টাকা, ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, ওস্তা ৫০ টাকা কেজি, সজিনা ১০০ টাকা কেজি, ঢেঁড়স ৮০ টাকা কেজি, কাচা আম ৬০ টাকা কেজি।

তবে কমেছে বেশিরভাগ মাছের দাম।রুই  মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া ১৩০, কাতলা  ৩০০, টেংরা কেজি ৪০০ থেকে ৬০০, চিতল ৫৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও আগের মতোই রয়েছে, ডজন ৭৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০, দেশি (বড়) মুরগি পিস ৩৫০ টাকা, কক ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী পারভেজ বিডিমর্নিংকে বলেন, বৈশাখের কারণে বাজারে ক্রেতা নেই বললেই চলে। তাই মাছের বাজারে কিছুটা মন্দা চলছে।

অপরিবর্তিত আছে চালের বাজার,প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়, প্রতি কেজি বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়, পায়জম চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৫ টাকায়, নাজির প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

এদিকে বেড়েছে  ডিমের দাম। প্রতি ডজন  ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ৭৫ টাকা।

মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের ডিমের ব্যবসায়ী শহীদ বিডিমর্নিংকে বলেন, বর্তমানে বাজারে ডিমের সরবারাহ কম। আর সে অনুযায়ী বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকায় ডিমের দাম কিছুটা বেশি।

কমেন্টস