প্রধানমন্ত্রী দেশে নেই, কোটা বাতিলে অগ্রগতিও নেই!

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৬, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে ঘোষণার পরেও প্রজ্ঞাপন জারি বা কমিটি গঠনের বিষয়ে রোববার রাত পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রেও উল্লেখযোগ্য তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। কোটা-সংক্রান্ত কাজগুলো করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রোববার বলেন, তাঁদের কাছে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার বলেন, একটু সময় লাগলেও কোনো অসুবিধা হবে না। কারণ এখন কোনো নিয়োগ পরীক্ষা নেই। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীও দেশে নেই।

গত বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণার দিয়ে বলেছেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করার কথা থাকলেও রোববার বিকেল পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে সফরের উদ্দেশে রোববার ঢাকা ছেড়েছেন। আট দিনের সফর শেষে ২৩ এপ্রিল তাঁর দেশে ফেরার কথা। ফলে এ বিষয়ে আরও সময় লাগতে পারে।

বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়। আর বাকি ৫৫ শতাংশ অগ্রাধিকার কোটায় নিয়োগ হয়। বিদ্যমান কোটার সংস্কার চেয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন করে আসছেন।

৮ এপ্রিল শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার কারণে আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠে। এর জের ধরে সারা দেশেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এ অবস্থায় গত বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের পক্ষে মত দেন। এই ঘোষণার পর প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করেন আন্দোলনকারী।

কমেন্টস