মরদেহগুলো বীভৎস; স্বজনদের হাসপাতালে ঢুকতে দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ

প্রকাশঃ মার্চ ১৩, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় হতাহত বাংলাদেশিদের অনেকের আত্মীয়-স্বজন ইউএস-বাংলা, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে মঙ্গলবার সকালে কাঠমান্ডু এসেছেন। তবে তাদের হাসপাতালে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মরদেহগুলো আগুনে পুড়ে বীভৎস হয়ে গেছে। এগুলো চোখে দেখে শনাক্ত সম্ভব নয়। মরদেহগুলো দেখে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এ আশঙ্কায় কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস বলেন, এখানকার হাসপাতালগুলোর প্রসেস একটু কমপ্লিকেটেড (জটিল)। আমরা তাদের (প্রসেস) শিথিল করার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

নিহত কো পাইলট প্রিথুলা রশিদের ভাসুর (স্বামীর বড় ভাই) বাবলু জানান, প্রিথুলা মারা গেছে শুনে এসেছি। কিন্তু আমাদের দেখতে দেয়া হচ্ছে না। এজন্য আমরা দূতাবাসের সাহায্য চেয়েছি।

আহত কবির হোসেনের ছেলে শাওন বলেন, ‘বাবাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক নিয়ে যেতে চাই। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।’

নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ কাঠমান্ডু টিচিং হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গতকাল দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস২১১ ফ্লাইটটি।  এতে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মতো মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। তবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন পর্যন্ত ৪১জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঢাকা থেকে যাওয়া ৭৮ আসনের ড্যাশ প্লেনটিতে পাইলট-ক্রুসহ মোট ৭১ জন আরোহী ছিলেন।

কমেন্টস