Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

চলে গেছেন ছেলে, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বউ; নিঃস্ব রকিবুলের মা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৮, ০৪:৩৪ PM আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৮, ০৪:৩৪ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নেপালের কাঠমাণ্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলা বিমানের প্লেনের যাত্রী ছিলেন রকিবুল ও তার  স্ত্রী হাসি খাতুন। ঘতনা গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হাসি। আর ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন রকিবুল।

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনার ভাঙন কবলিত নিভৃত চরাঞ্চল বাগুটিয়ার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তিনি। এলাকার মানুষের চোখে রত্ন ছিলেন প্রকৌশলী রকিবুল হাসান ঝন্টু। অত্যন্ত মেধাবী রকিবুল বিদেশি একটি কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রকিবুলের অকাল মৃত্যুতে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসীসহ আত্মীয়-স্বজনরা।

স্থানীয়রা জানান, একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয় মেধাবী রকিবুল। তার বাবা প্রয়াত রবিউল করিম মাস্টার ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। রকিবুল একাদশ শ্রেণিতে অধ্যায়নকালে মারা যান তিনি। বাবার মৃত্যুর পরও পেছন ফিরে তাকাননি তিনি। একের পর এক সব পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন এবং সবশেষে রাজশাহী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে একটি বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি নেন।

নিহত রকিবুলের চাচাতো ভাই বাবু বলেন, দু’বছর আগে টাঙ্গাইল জেলার হাজারীঘাট এলাকার হাসি খাতুনকে বিয়ে করেন রকিবুল। তার স্ত্রী রাজশাহী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। একই দুর্ঘটনায় তিনিও আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, রকিবুলের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ওই পরিবারের বংশপ্রদীপ নিভে গেল। বাবার একমাত্র ছেলে রকিবুলের এক বোন রুমা আক্তার বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। বৃদ্ধ মা ছেলের সঙ্গে ঢাকাতেই থাকতেন।

সোমবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যার পর এলাকাবাসী জানতে পারেন প্লেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন রকিবুল। খবর পাওয়ার পরই নিহত রকিবুলের গ্রামের বাড়িতে ভিড় জমান স্থানীয়রা। এ সময় গ্রামের বাড়িতে নিকট আত্মীয়-স্বজন ছাড়া রকিবুলের পরিবারের কেউ ছিলেন না। আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার প্রতিটি মানুষের মুখ ছিল বিষাদময় আর চোখ ছিল অশ্রুসজল।

বাগুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার আকন্দ বলেন, রকিবুল ছিলেন এ দুর্গম চরাঞ্চলের রত্ন। মেধা ও শ্রম দিয়ে তিনি নিজের জীবন গড়ে তুলছিলেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তার মৃত্যু, এটা কেউ সহজে মেনে নিতে পারছেন না।

তিনি আরও বলেন, ছেলেকে হারিয়ে রকিবুলের মা এখন নিঃস্ব। এক মেয়ে রুমা আক্তার বিয়ে করে আমেরিকায় বসবাস করছেন। অসহায় বৃদ্ধ মা এখন ঢাকার নিউমার্কেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন। তাকে দেখার মত আর কেউ রইলো না।

প্রসঙ্গত, গতকাল দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস২১১ ফ্লাইটটি।  এতে ৫০ জনের মতো মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। তবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন পর্যন্ত ৪১জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঢাকা থেকে যাওয়া ৭৮ আসনের ড্যাশ প্লেনটিতে পাইলট-ক্রুসহ মোট ৭১ জন আরোহী ছিলেন।

Bootstrap Image Preview