বিধ্বস্ত প্লেনে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী বিটের সাংবাদিক ফয়সালও

প্রকাশঃ মার্চ ১২, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) বিধ্বস্ত ইউএস বাংলার বিমানেই ছিলেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বৈশাখীর স্টাফ রিপোর্টার ফয়সাল আহমেদ (২৯)। বৈশাখীর হয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিটের খবর কভার করতেন বলে জানিয়েছেন চ্যানেলটির হেড অব নিউজ অশোক চৌধুরী।

তিনি জানান,  ফয়সালের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর। বাবা-মা দুজনেই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। ফয়সালের একজন নিকট আত্মীয়ের বরাতে জানা গেছে, তিনি ওই ফ্লাইটেই ছিলেন।

তিনি বলেন, সোমবার থেকে পাঁচ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন ফয়সাল আহমেদ। তবে তিনি অফিসকে এই সফরের বিষয়ে কিছু জানাননি। পরে ফ্লাইটের যাত্রী তালিকায় নাম দেখে পাসপোর্ট নম্বর মিলিয়ে তারা বুঝতে পারেন ফয়সাল সেই ফ্লাইটে ছিলেন।

বৈশাখী টিভির অ্যাসাইন্টমেন্ট এডিটর মিঠুন মোস্তাফিজ বলেন, ফয়সাল ওই ফ্লাইটে ছিল। তবে সে নিহত নাকি হাসপাতালে আহত তা জানা যাচ্ছে না।

মিঠুন বলেন, বিধ্বস্ত ফ্লাইটের যাত্রী তালিকায় থাকা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে ফয়সালের পাসপোর্ট নম্বর মিলে যায়। তার মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও বন্ধ।

প্রসঙ্গত, সোমবার নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০মিনিটে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। নেপালের স্থানীয় দৈনিক হিমালয় টাইমস বলছে, ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই বিমানটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিধ্স্ত বিমানটিতে চার ক্রুসহ ৭১ আরোহী ছিলেন। এদের মধ্যে ৩৩ জনই নেপালের নাগরিক।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর বলেন, বিধ্বস্ত বিমানের ভেতর থেকে ২৫ জনকে উদ্ধারের পর কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শিনামঙ্গল প্রশিক্ষণ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালের পৌঁছানোর পর চিকিৎসক এদের মধ্যে ৭ জনকে মৃত ঘোষণা করেছেন।

তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ত্রিভূবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিকে, বিমান বিধ্বস্তের পর নেপালের পর প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ৪১ নিহত এবং ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জেনেছি। এছাড়া ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আর চিকিৎসা শেষে চার জনকে রিলিজ করে দেওয়া হয়েছে।’

কমেন্টস