বাবার নির্মিত মসজিদ ছেলেদের দখলের চেষ্টায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ

প্রকাশঃ মার্চ ৭, ২০১৮

মহিনুল ইসলাম সুজন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ

নীলফামারী ডোমারে মসজিদ দখলের চেষ্টায় এলাকাবাসীর মনে নানা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ঘটনাটি ডোমার পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ড চিকনমাটি রেলষ্টেশন পূর্বপাড়া গ্রামে।

সরেজমিনে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিন এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য দীর্ঘ ২০ বছর পূর্বে তার বাড়ীর সামনে নামাজ আদায় ও আরবী শিক্ষার জন্য একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করেন। ২০০১ সালে তিনি মৃত্যুের পর সেই মসজিদের উন্নয়নকল্পে ২ বার সরকারি অনুদান প্রাপ্ত হয়। এছাড়াও গত ৪ বছর যাবত সেখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে এতে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী আরবী শিক্ষা গ্রহণ করে।

গত বন্যায় মসজিদটির দেয়ালের কিছুটা ভেঙ্গে যাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলেরা মিলে খড়ি ও গরু রেখে মসজিদ ঘড়টি নোংরা করে আসছে। মসজিদটি দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তার ছোট ভাই তাইজুল ও বুলবুল বলেন, আমার বাবা বেঁচে থাকাকালীন ওই মসজিদ ঘরটি নির্মাণ করেন। আমাদের পরিবারে লোকজনসহ এলাকার মানুষ সেখানে নামাজ পড়ে এবং সকালে শিশুরা আরবী শিক্ষা গ্রহণ করেন।

আজ আমার ভাই তালেবুল ও আবু তাহের মিলে দখল করে  ভেঙ্গে ফেলার পায়তারায় মেতে উঠেছে।  তার বাবার রেখে যাওয়া মসজিদটি চালু রাখার জোর দাবি জানান।

এলাকার সাবেক কাউন্সিলর আশিকুর রহমান সাজু জনান, আমি কাউন্সিলর থাকাকালীন সেখানে ২ বার টিআর প্রকল্পের সরকারী বরাদ্ধ পেয়েছিলাম। সেটা দিয়ে মসজিদটির বারান্দা ও অন্যান্য কাজ নিজ হাতে সম্পন্ন করি। সেটি আজ গোয়াল ঘড়ে পরিনত করেছে তারা। মসজিদটি চালু থাকলে এলাকার শিশুরা আরবী শিক্ষা পাবে পাশাপাশী মসজিদটি সুরক্ষিত থাকবে।

এরই ধারাবাহিকতায় ৬মার্চ মঙ্গলবার গভীর রাতে তালেবুল তার জামাই মশিয়ার, ভাই আবু তাহেরসহ রায়হান, রুবেল, রাতুল, অজ্ঞাত নামা লোকজন নিয়ে মসজিদটি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশকে সংবাদ দিলে ডোমার থানা এসআই অনন্ত কুমার রায় ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

মোমিনুল ইসলাম লিথুর স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, দখলের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করার পরিকল্পনায় তালেবুল নাটক সাজিয়ে তার স্ত্রী আফেলা বেগম কে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মসজিদটি রক্ষার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আলহাজ তমিজ উদ্দিনের পরিবার।

কমেন্টস