গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পামফল, চাষিদের মাথায় হাত

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-  

অতি আশায় পামচাষ করেছিলেন খাগড়াছড়ির শত শত কৃষক। কিন্তু সব হারিয়েছেন খাগড়াছড়ির এসব কৃষকেরা।ক্ষতির শিকার হচ্ছেন চাষিরা। পামফল সংগ্রহ করে তেল উৎপাদন কিংবা বিক্রির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন চাষিরা।

উৎপাদিত পামফল সংরক্ষণ ও বিপণন করতে না পারায় বাধ্য হয়ে অনেকে পামগাছ কেটে ফেলছেন। পামফল থেকে তেল নিষ্কাশনের জন্য এক বছর আগে খাগড়াছড়ি বিসিক শিল্প নগরীতে একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপিত হলেও এখনো এক ফোঁটা তেলও উৎপাদন সম্ভব হয়নি। সরকারি দপ্তরগুলোও এ অসহায় চাষিদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না বলে অভিযোগ পামচাষিদের। হতাশ পামচাষিরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ের ঢালে ঢালে শোভা পাচ্ছে কয়েক শ একর পামগাছ। প্রায় সব গাছেই ফল এসেছে। ওয়ান ইলাভেন সরকারের আমলে মূলত খাগড়াছড়িতে প্রথম পাম চাষাবাদ শুরু হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের আমলে ২০০৭-২০০৮ সালে ব্যাপক হারে পামচাষ হয়। বিশেষ গোষ্ঠীর প্ররোচনায় শত শত কৃষক নিজেদের সব অর্থ বিলিয়ে দিয়ে পাম চাষে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাম চাষে ভাগ্যের পরিবর্তনের আশায় অনেকেই উদ্বুদ্ধ হন।

৪/৫ বছরের ব্যবধানে প্রতিটি গাছে পামফল আসতে শুরু হয়। কৃষকদের মুখে হাসিও ফোটে।

কিন্তু পামচাষ সম্পর্কে ধারণাই ছিল না তাঁদের। জানা ছিল না ফল সংগ্রহ ও তেল তৈরি পদ্ধতি। উৎপাদিত পামফল বাজারজাতের বিষয়ে কৃষকরা ভাবতেই পারেননি। ফলে গাছে পামফল পাকার পর ক্রেতা খুঁজে না পাওয়ায় হতাশ হতে শুরু করেন তারা। যারা পামচাষে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, তারা গা ঢাকা দেন। এই চাষে উৎসাহিত করা বিশেষ গোষ্ঠীর লোকজনকে আর দেখা যায় না। বিশেষ করে পামচারা বিক্রয়কারীরাও পালিয়ে যায়। ফলে এই কৃষকদের মুখে হাসি ছিল, তারাই নিরাশ হয়ে পামগাছও কেটে ফেলছেন। এখনো বহু পামবাগানে ফলগুলো গাছেই পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

পামচাষি মো. শাহাদাত হোসেন জানান, তার পামবাগানে এ পর্যন্ত সোয়া দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

এ পর্যন্ত ১০০ টন পামফল নষ্ট হয়েছে বলে জানান। লাভ না থাকায় এখন নিঃস্ব হয়ে দিশাহারা তিনি। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই বলেও উল্লেখ করেন।

আরেক পামচাষি কে এম ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেছেন, কৃষকদেরকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে পামচাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এখন পামফল কিনতে কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রায় এক বছর আগে খাগড়াছড়ি বিসিক শিল্প নগরীতে পামচাষিদের উদ্যোগে কর্ণফুলী গোল্ডেন পাম লিমিটেড নামে সমিতির মাধ্যমে একটি মেশিন বসালেও এক ফোঁটা তেলও উৎপাদন সম্ভব হয়নি। ফলে ওই কারখানার শ্রমিকরাও বেতন-ভাতা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলায় ১৩৫ হেক্টর পামবাগান রয়েছে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবুল কাশেম জানান, প্রতারণার শিকার হয়েই কৃষকরা খাগড়াছড়িতে পামচাষ করেছিলেন। এখন সেগুলো লাভের পরিবর্তে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কমেন্টস