এসএসসি পরীক্ষার্থী ধর্ষণের তিন দিন পর আটক ধর্ষক

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

মিঠুন মাহমুদ, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধিঃ

জীবননগরে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন এবং তা মোবাইলে ভিডিও ধারন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তিন দিন পর ধর্ষক আরিফকে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার রাখাল শাহ গ্রামের মৃত আঃ সালামের ছেলে ধর্ষক আরিফের (২৫) সাথে একই উপজেলার ৯নং ওর্য়াডের তেঁতুলিয়া গ্রামের আঃ হালিমের মেয়ে এস এস সি পরীক্ষার্থী হালিমা খাতুনের (১৬) সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই জের ধরে গত তিন দিন আগে মোবাইল ফোনে ওই মেয়েকে  দেখা করার কথা বলে আরিফ।

আরিফের কথামতো ওই স্কুলছাত্রী খয়েরহুদা গ্রামে দেখা করতে আসে। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা আরিফ ও তার  বন্ধু জুয়েল এবং রশিদ সিরাজ দেওয়ান (২৪) এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই মেয়েকে মুখ চেপে ধরে পাশের ক্ষেতে নিয়ে যায়।

পরে তিন বন্ধু পালাক্রমে ওই এস এস সি পরীক্ষার্থীকে পাশবিক নির্যাতন করে এবং তা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে।

ঘটনাটি মেয়ে পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা ধর্ষক আরিফকে গত মঙ্গলবার সন্ধার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর নিকট ধর্ষক আরিফ সমস্থ ঘটনা স্বীকার করে। এ সময় স্থানীয় এলাকবাসী ধর্ষক আরিফকে জীবননগর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।

এ ব্যাপারে ধর্ষনের শিকার এস এস সি পরীক্ষার্থী হালিমা খাতুন অভিযোগ করেন, আরিফের সাথে তার গত এক বছর ধরে  প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর আগেও  আরিফ তাকে বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত তিন দিন আগে আরিফ তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে আরিফসহ তার দুই বন্ধু মিলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে।

চিৎকার করতে গেলে তারা তার ধর্ষনের ভিডিও ধারন করে এবং তা ফেসবুকসহ ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে।

জীবননগর পৌর সভার ৯নং ওর্য়াড কাউন্সিলার আত্তাব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং আমরা আরিফকে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করি। এ ঘটনার সাথে জড়িত আরিফের দুই বন্ধু পলাতক রয়েছে।

এ ব্যাপারে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুর রহমান জানান, ধর্ষনের ঘটনায় থানায় গত মঙ্গলবার রাতে গণধর্ষনের অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতনের ৯(৩)ততশুনানী ৩৭৯/৫০৬ দন্ডবিধিনুযায়ী ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

জীবননগর থানা সূত্রে জানা গেছে ধর্ষক আরিফকে বুধবার কোর্টে প্রেরন করা হয়েছে। এদিকে ধর্ষক আরিফ ও তার দুই বন্ধুর শাস্তির দাবি করছেন এলাকার সাধারন মানুষ।

কমেন্টস