শিববাড়িতে শিব চতুর্দশীর মেলা শুরু

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ‘আন্তর্জাতিক তৃতীয় পিঠস্থান’ ঝালকাঠির শিববাড়িতে চলছে ঐতিহ্যবাহী শিব চতুর্দশীর মেলা।

বুধবার এ উপলক্ষে থেকে দুইদিন ব্যাপি গ্রামীন ঐত্যিহ্যের মেলা বসেছে।

৩শ’ বছরেরও অধিক কাল ধরে প্রতিবছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শিব চতুর্দশী উপলক্ষে দেশ বিদেশের হাজার হাজার হিন্দু পূন্যার্থী শিব দর্শন করতে আসার কারণেই এ মেলার উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।

সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের শিববাড়ি গ্রামে শুরু হওয়া মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী অংশ নিচ্ছেন।

মেলা কমিটির সভাপতি বলেন, হিন্দুদের আন্তর্জাতিক এই তৃতীয় পিঠস্থানে প্রতি বছর শিব চতুর্দশী উপলক্ষে মেলা বসে। মেলার প্রধান পর্ব দেবতা শিবের উপাসনা। এক সময় নেপাল-ভারত ও শ্রীলঙ্কা থেকেও পুণ্যার্থী আসত। তখন মাসব্যাপী মেলা জমত। লাখ লাখ মানুষের সমাগম হত। এখন আর আগের দিনের মতো নেই।পরিসর অনেক কমে গেছে। তবে এ বছর প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজারের মতো পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে বলে ধারণা করছি।

গ্রামীণ সংস্কৃতির নগরদোলা থেকে শুরু করে সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে এ মেলায়। দোকানে দোকানে মিষ্টি, পান-সুপারি, মেয়েদের প্রসাধনীর পসরা সাজিয়ে বসেছে অনেকে। নাগরদোলা আর শিশুদের খেলনা তো আছেই।

মেলায় আসা অনেকেই বিশেষ উদ্দেশ্যে শিবের পূজা করছেন। নারীরা স্বামীর মঙ্গল কামনায়, কুমারীরা আকাঙ্ক্ষিত বর প্রত্যাশায় ফুল-জলসহ নানা মাঙ্গলিক উপাদানে নৈবেদ্য সাজিয়ে দেবতা শিবকে সন্তুষ্ট করছেন। শিশুর মঙ্গলের জন্য মানত নিয়ে এসেছেন মায়েরা।

চারুখান থেকে সপরিবার এসেছেন শুশীল মন্ডল। মেয়ে, স্ত্রী ও শিশুছেলের সঙ্গে এনেছেন প্রতিবেশীদেরও।

তার মেয়ে শিক্ষার্থী সুপ্রিয়া মন্ডল বলেন, “ছোটবেলা থেকে পিসি, বড় বোনসহ আত্মীয়-স্বজনকে এই উৎসব উদযাপন করতে দেখে আসছি। আমি আজ সকাল থেকে উপবাস করছি, শিবের ব্রত পালন শেষে উপবাস ভাঙব।”

যোগ্য বর প্রত্যাশায় শিব ঠাকুরকে নৈবেদ্য দিতেই এত দূর এসেছেন বলে জানান সুপ্রিয়া।

এদিকে ছেলের মানত পুরা করতে শিশুছেলেকে নিয়ে ঢাকার গাজিপুর থেকে এসেছেন নমিতা রায়। সাথে আছেন তার আত্মীয়-স্বজনও। ছেলের জন্য শিববাড়িতে মানত ছিল। তাই এ উৎসবে ওর চুল কেটে ন্যাড়া করে মানতি পালন করলাম।

আবার কেউ কেউ এসেছেন নিছক মেলা উপভোগের জন্য। কাউখালি থেকে আসা এমন একদল তরুণের সাথে কথা হল।  রুম্মান, “অনেক দিন ধরে প্রতিবেশীদের কাছে এ মেলার কথা শুনে আসছি। এত বড় আর এমন উৎসবমুখর মেলা আমি আর কোনো দিন দেখিনি।” উপভোগ করছি বেশ ভালই লাগছে।

বুধবার দিবাগত রাতে ত্রাম্বকেশ্বর ভৈরবের পূঁজানুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শিব চতুর্দশীর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। তবে মেলা চলবে আরো একদিন।

কমেন্টস