আবারও আলোচনা আগামীকাল: রোহিঙ্গাদের ফেরাতে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মিয়ানমারের আহ্বানে বাংলাদেশ থেকে আমরা গিয়েছিলাম। সেবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোরালো বক্তব্য রাখে বাংলাদেশ। এবার বাংলাদেশের আহ্বানে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল আসছে। মূলত রোহিঙ্গা নির্যাতন ও অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কথাবার্তা হবে।

বুধবার নৌ ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে কোস্টগার্ড সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন। এছাড়া বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক অতিথিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের আহ্বানে মিয়ানমারের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আসছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। তাদের সঙ্গে বৈঠকে নৃশংস নির্যাতনের মুখে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে শক্ত অবস্থান জানান দেবে বাংলাদেশ।

রোহিঙ্গাদের আসা কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আগে হাজারে হাজারে আসতো। এখন তা হচ্ছে না। অনেকটা কমেছে। রোহিঙ্গাদের আসার সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা হবে।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়টি গৌণ পর্যায়ে গেছে কিনা- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গৌণ নয়। বিষয়টির ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চাপ আছে বলে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে। এবারও আমরা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কথাবার্তা বলব এবং আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখব।

প্রশ্ন ফাঁসের হোতারা ধরা না পড়ার কারণ জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা কাজ করছে, কয়েকজন ধরা পড়েছে। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করছি। আশা করছি খুব দ্রুত হোতারা ধরা পড়বে।

‘খালেদা জিয়াকে পুরাতন ভবনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়েছে’- বিএনপির এমন দাবি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) নতুন ভবনেই আছেন। তাকে পুরাতন কারাগারের ভেতরে ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখা হয়েছে। সেটি নতুন ও স্বাস্থ্যসম্মত। কারাবিধি অনুযায়ী তিনি যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবার কথা তা তাকে দেয়া হচ্ছে। সহসা খালেদা জিয়াকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেই।’

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যৌথ কার্যকরী গ্রুপের (জেডাব্লিউজি) বৈঠক ১৫ জানুয়ারি মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের খুঁটিনাটি বিষয় দেখভালের জন্য ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তি সই হয়। রোহিঙ্গারা কোন সীমান্ত দিয়ে ফেরত যাবে, যাওয়ার আগে বাংলাদেশের কোন অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থান করবে, মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার পরে কোথায় থাকবে ইত্যাদি বিষয়গুলো ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এর আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের মাধ্যমে গত ১৯ ডিসেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে জেডাব্লিউজি গঠন করা হয়। জেডাব্লিউজি’র টার্মস অব রেফারেন্সের (কার্যপদ্ধতি) সম্মতিপত্রও সই হয়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে জেডাব্লিউজি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে ওই সময় জানানো হয়।

গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী জেডাব্লিউজি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন, রাখাইন রাজ্যে পুনর্বাসন এবং মিয়ানমার সমাজে পুনঃএকত্রিকরণের পদক্ষেপ নেবে।

জেডাব্লিউজি সার্বিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করবে এবং নিজ নিজ দেশের সরকারকে তিন মাস অন্তর মূল্যায়ন প্রতিবেদন দেবে। প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আগ্রহী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

গত ২৫ আগস্টের পর আসা সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা এবং ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের পরে আসা ৮৭ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের জন্য বিবেচনায় নেয়া হবে। এর আগে থেকে বাংলাদেশে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করে আসছেন।

কমেন্টস