Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ঝিনাইদহের মহাব্যস্ত ফুল কন্যারা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১২:০৪ PM আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১২:০৫ PM

bdmorning Image Preview


ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

ফুল ছাড়া কি প্রিয় মানুষকে ভালবাসা দিবসের শুভেচ্ছার কথা বলা যায়? হৃদয়ের মধ্যে জমে থাকা পাহাড়সমান ভালবাসা যেন অসম্পন্নই থেকে যায় একটি ফুল ছাড়া। তাই ভালবাসা দিবসে প্রিয় মানুষটিকে মূল্যবান কোন উপহার দিতে পারুক আর নাই পারুক একটি ফুল দিয়ে প্রকাশ করতে পারে ভালবাসার নতুন কথা।

আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস, এ দিনে একটি ফুল অগণিত তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীসহ সকল বয়সের মানুষের হাতে তুলে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে ঝিনাইদহের ফুল কন্যারা। প্রতিবছর বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষ, স্বাধীনতা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ভালবাসা দিবসের মতো দিন গুলোতে ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকে। আর এই চাহিদার সিংহভাগ যোগান দিয়ে থাকে ঝিনাইদহ এলাকার ফুল চাষীরা।

ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠের পর মাঠ চাষ করা হয়েছে গাঁদা, রজনীগন্ধ্যা, গোলাপ ও প্লাডিয়াসসহ নানা জাতের ফুল ক্ষেত। এসব ফুল ক্ষেত থেকে সংগ্রহ ও মালা গাথা থেকে শুরু করে বিক্রি করা পর্যন্ত এলাকার অধিকাংশ মেয়েরা ফুলের কাজে ব্যস্ত থাকে। ফলে পুরুষদের পাশাপাশি মেয়েদেরও কর্মসংস্থান হচ্ছে। এ এলাকার উৎপাদিত ফুল প্রতিদিন দূরপাল্লার পরিবহনে চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় বড় শহর গুলোতে। জাতীয় ও বিশেষ দিন গুলো ছাড়াও সারা বছর এ অঞ্চলের উৎপাদিত ফুল সারাদেশের চাহিদা মেটাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার ফুলনগরী বলে খ্যাত বালিয়াডাঙ্গার ফুলকন্যা আয়েশা বেগম ও জরিনা খাতুন জানায়, আমরা বছরের বারো মাসই ফুল তোলাও মালা গাথার কাজ করি। কিন্তু বিশেষ দিনকে সামনে রেখে কাজ একটু বেশি করতে হয়। আমাদের আয় উপার্জন ও এ দিন বেশি হয়। তারা আরো জানায়, এখন সাসনে ভালবাসা দিবস উপলক্ষে প্রতিদিন সকাল বিকাল কাজ করতে হচ্ছে। ব্যবসায়িরা ফুল নিতে ফুল ক্ষেত মালিকদের বাড়ি বসে থাকছে। ফলে সব কিছু রেখে সারাদিন ফুল তুলছি। প্রতি ঝোপা ফুল তুলে গেঁথে দিলে ফুল মালিক ১৫ টাকা করে দেয়। প্রতিদিন তারা ১৫ থেকে ২০ ঝোপা ফুল তুলতে পারে।

ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, এ বছর ঝিনাইদহ জেলায় প্রায় ৪শ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করা হয়েছে গ্লাডিয়াস, রজনীগন্ধ্যা গোলাপ, গাঁদাসহ নানা জাতের ফুল। উৎপাদন ব্যয় কম, আবার লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা ক্রমান্বয়ে ফুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। জেলার গান্না, বালিয়াডাঙ্গা, তিল্লা, সিমলা, রোকনপুর, গোবরডাঙ্গা, পাতবিলা, পাইকপাড়া, তেলকুপ, গুটিয়ানী, কামালহাট, বিনোদপুর, দৌলতপুর, রাড়িপাড়া, মঙ্গলপৈতা, মনোহরপুর, সাইটবাড়িয়া, বেথুলী, রাখালগাছি, রঘুনাথপুরসহ ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ফুল চাষ করা হয়েছে ব্যাপক হারে। সবচেয়ে বেশি গাধা ফুল চাষ হয় কালীগঞ্জে বালিয়াডাঙ্গা এলাকায়। এ কারণে সবাই এখন এই এলাকাকে ফুলনগরী বলেই চেনে।

সরেজমিনে ঘুরে বালিয়াডাঙ্গা বাজার,কোলাবাজার ও কালীগঞ্জের বাস টার্মিনালে দেখা যায়, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শত শত কৃষক তাদের ক্ষেতের উৎপাদিত ফুল ভ্যান, স্কুটার ও ইঞ্জিন চালিত বিভিন্ন পরিবহন যোগে নিয়ে আসছেন। বেলা গড়ানোর সাথে সাথে বালিয়াডাঙ্গা বাজার ও কালীগঞ্জ মেইন বাস ষ্ট্যান্ড ভরে যায় লাল, সাদা আর হলুদ ফুলে।

Bootstrap Image Preview