কালীগঞ্জে এক সপ্তাহে শতাধিক শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮

হাবিব ওসমান, ঝিনাইদহ (কালীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে শিশু ডায়রিয়া। গত এক সপ্তাহে এক সপ্তাহে শতাধিক শিশু আক্রান্ত হয়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্তরা হাসপাতাল ও প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।

দেখা যাচ্ছে হাসপাতালগুলোতে যথেষ্ঠ পরিমাণে শয্যা না থাকায় কেউ কেউ নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন ভাইরাস ও আবহাওয়া জনিত কারনে এই রোগ দেখা দিয়েছে। তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা ঠিকমত চিকিৎসা সেবা নিয়েই বাড়ি ফিরছেন।

এদিকে হঠাৎ ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসক আছেন টিএইচ এ বাদে মাত্র ২ জন। ফলে চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা পড়ছে ভোগান্তিতে। চিকিৎসাকদের ভাষ্য রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে তাদেরকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ হাসপাতাল হলেও রোগী ভর্তি আছেন ৭২ জন। অতিরিক্তরা শয্যা ছাড়াও দ্বিতল ভবনের বারান্দা ও ফ্লোরে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। বেশির ভাগই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুসহ সব বয়সী মানুষ। এতোগুলো রোগী সামলাচ্ছেন মাত্র ৪ জন চিকিৎসক।

হাসপাতালসূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে হাসপাতালটিতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে প্রায় শতাধিক। তাছাড়াও অনেকে বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিক ও বাড়িতে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। শুধু শিশুরাই নয় সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে এটা ভাইরাসজনিত কারণে হচ্ছে। ফলে আক্রান্তদের সুস্থ্য হতে একটু সময় লাগছে। এখানে ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য খাবার স্যালাইনের ঘাটতি না থাকলে শিরায় প্রয়োগের জন্য কলেরা স্যালাইনের অপেক্ষাকৃত কম রয়েছে।

হাসপাতালটিতে মেডিসিন, গাইনী, শিশু, অর্থো, ইএনটি, চর্ম, চক্ষু, সার্জারীসহ ১০ জন বিশেষজ্ঞসহ মোট ৩২ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছে টিএইচএ বাদে ৪ জন সহকারী ডাক্তার আছেন। মেডিসিনে ডাঃ মোঃ মাহাফুজুল আলম সোহাগ ও ডাঃ অরুন কুুুুমার দাস, ডাঃ সম্পা মদক, গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডাঃ আলাউদ্দীন আল আজাদ মাত্র এ ৪ জন নিয়মিত চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ডা. মো. মাহাফুজুল আলম সোহাগ জানান, সেবামূলক খাতে চাকুরীর জন্য যত কষ্টই হোক না কেন এটা মেনে নিয়েই সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে এভাবে রাতদিন দায়িত্ব পালন করতে হলে এক সময়ে তাদের নিজেদেরও রোগী হয়ে যেতে হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের কর্মকর্তা হোসাইন সাফায়েত জানান, সম্প্রতি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে ডায়রিয়ার প্রকোপটা কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

চিকিৎসক সঙ্কটের বিষয়ে তিনি জানান, এটা উপরি মহলে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। আশা করছেন খুব তাড়াতাড়ি সঙ্কট কেটে যাবে। তাছাড়াও ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে পোষ্টিংকৃত ২ জন চিকিৎসক (ডা. শারমিন সুলতানা লুবনা ও সুলতান আহম্মেদকে) উভয় স্থানে কাজে লাগানো হয়েছে। তারপরও বর্তমানে রোগীর চাপে তাদের পক্ষে হাসপাতাল সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া হাসপাতালের সেবিকাদের (নার্স) নামে নানান রকম অভিযোগে প্রায়ই শোনা যায়।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীর অবিভাবকগণ জানান, নার্সদের ডাকলে তারা আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। জরুরিভাবে ডাকলে অনেক পরে এসে বলে ব্যাস্থ হন কেন? আপনারা কি আমাদের চেয়ে বেশী বোঝেন? প্রায় সময়ই দেখা যায় মোবাইলে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলা এবং ফেসবুক চালাতে ব্যাস্থ থাকে। হাসপাতালের বাথরুম এবং বেচিং এত অপরিষ্কার দেখলে মনে হবে এই হাসপাতালের কোন অবিভাবক নেই। এই সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধি, সিভিল সার্জন ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টির আশা করছে সবাই।

কমেন্টস