Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

মতলব উত্তরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে জমি দখলের অভিযোগ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১০:৫৬ PM আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১০:৫৬ PM

bdmorning Image Preview


জাকির হোসেন, মতলব প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে স্কুল সংলগ্ন একটি ব্যক্তিমালিকানা জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জমির মালিক ফতেপুর গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিন প্রধানের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৬৫) বাদী হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারী চাঁদপুর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, করনিক দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ফারুক হোসেন (৪৮), ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মৃত মোজাম্মেল হক খানের ছেলে বাবুল খান (৪৯), মৃত ছৈয়দ আলী সরকারের ছেলে তপন সরকার রতন (৪২) ও মৃত আর্শাদ বেপারীর ছেলে জাকির (৪৫) কে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।দরখাস্ত মামলা নং ১৪০/২০১৮। এছাড়াও নালিশী ভূমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে স্থিতাবস্থার জন্য বাদীর আবেদনে প্রেক্ষিতে ১৪৫ ধারা জারি করেন আদালত। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১২৩নং ঠেটালিয়া মৌজার ৬৭ নং সিএস খতিয়ান ৬০০ দাগে ৮ ও ৬৮ মোট ৭৬ শতাংশ ভূমি ৪৮১১, ৬৩৮৫, ৬৬৯, ৫৯৫২ ও ৩৭৬২ নং দলিল মূলে খরিদ করে মালিক ও দখলদার হইয়া বিগত ১৫ বছর পূর্বে ফলজ বাগান করেন বাদী। বাগানে থাকা প্রায় ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১৫০টি আম গাছ, ১০০ টি লিচু গাছ, ২০০টি লেবু গাছ, ১০টি সুপারি গাছ, ৫০টি কাঁঠাল গাছ, ২০০ টি বড়ই গাছ, ১০ পামওয়েল গাছ, ১০০ টি আনারস গাছ, ৫০ টি লটকন গাছ ৬০ টি পেয়ারা গাছসহ সহ¯্রাধিক গাছ কর্তন করে মামলার বিবাদীগণ জোড়পূর্বক জমি দখল করে। প্রতি বছর উক্ত বাগান থেকে ২ লক্ষ টাকার ফল বিক্রি করা হতো। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি দো-চালা টিনের ঘর ভাঙচুর করে, বাগানে কাটা তারের বেড়ার সীমানা কাটিয়া ৭০ টি পাকা সিমেন্টের পিলার ভাংচুর করে, যার আনুমানিক মূল্য ১ লক্ষ টাকা। ১৫ বছর আগে বাগানের অধিকাংশ চারা রাজশাহীর আ¤্র কানন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। উক্ত বাগানটি একটি আদর্শ ফলের বাগান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় গত ২০১৪ সালে চ্যানেল আইয়ে হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানে প্রচারিত হয়েছিল। বাগানের সমস্ত গাছ কেটে ও টিনের ঘরটি ভাঙচুর করে নিয়ে বাগানে জোড় করে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে মাটি দিয়ে ভরাট করে আসামীরা। এতে বাধা দিতে গেলে মামলার বাদী বৃদ্ধা ফিরোজা বেগমসহ বাদীপক্ষের আরো কয়েকজনকে কিল, থাপ্পর ও আঘাত করে এবং আসামীদের দেশীয় অস্ত্র দা, ছেনী, কুড়াল, রড, শাবল ইত্যাদি দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে। মামলার বাদী ফিরোজা বেগম বলেন, আমার জমি তারা স্কুলের নামে জোড়করে দখল করার লক্ষ্যে বালু ফেলেছে। জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ১ হাজারের বেশি ফলের গাছ লাগানো ছিল। ফলসহ সেই গাছগুলো কেটে ফেলেছে এবং বাগানে থাকা একটি দোচালা টিনের ঘর ছিল সেটিও ভাঙচুর করে নিয়ে গেছে। আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে তাদের কেউ কিছু বলতে পারে না। আমি সুষ্ঠু সমাধান না পেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করি। আদালতের কাছে আমার জমি দখল ও বাগানের গাছ কাটার সুষ্ঠু বিচার চাই।এদিকে মামলার বাদী ফিরোজা বেগমের আবেদনের প্রেক্ষিতে নালিশী ভূমিতে স্থিতাবস্থা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ১৪৫ ধারা জারি করেন আদালত। এ বিষয়ে ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রজ্জব আলী বলেন, আমি কয়েকদিন যাবৎ এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছি। মামলার বিষয়টি আমি পুরোপুরি জানি না। স্কুল উন্নয়নের বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটি দেখেন। এ ব্যাপারে কমিটির সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।  
Bootstrap Image Preview