গাইবান্ধায় বোরো রোপনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কৃষকেরা

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮

ফরহাদ আকন্দ, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধার জেলার সাত উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বন্যার পরে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বোরো রোপনের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকেরা। শৈতপ্রবাহ ও ঘনকুয়াশা উপেক্ষা করে বোরো রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সার ও বীজ চারা নিয়ে কোমর বেধে মাঠে নেমেছেন তারা। বিরামহীন গতিতে চলছে বোরো রোপনের কাজ। তবে বেশ কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে শ্রমিক ও চারা সংকট।

সরেজমিনে গাইবান্ধার সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এখনো ঘন কুশায়া রয়েছে। কুয়াশার মধ্যেই কৃষকেরা বোরো রোপনের জন্য জমি তৈরির কাজ করছে। আবার কেউ বোরো চারা তুলতে ব্যস্ত। কেউ জমিতে পানি নিয়ে চাষ করে মই দিয়ে জমির উচু-নিচু সমান করতে খুবই ব্যস্ত।

সাদুল্যাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক মাহাবুর মিয়া বলেন, নিজস্ব জমিতে প্রতি বছরে ধান রোপনের জন্য চাহিদার চেয়েও বেশি পরিমাণে বীজ বোপন করে আসছি। যা রোপন শেষে অতিরিক্ত বীজ-চারা বিক্রি করে লাভবান হওয়া যেত। কিন্তু এবছর ঘন কুয়াশার কারণে বীজ-চারা নষ্ট হয়েছে। কীটনাশক বিক্রতাদের পরামর্শে স্প্রে করেও কোন লাভ হয়নি। বীজতলার সব বীজ-চারা লাল ও নির্জীব হয়েছে। এসব বীজ-চারা রোপন করলে আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাবে না।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কৃষক নাজমুল হোসেন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকার কারণে বোরো চারা সংকট দেখা দিয়েছে। বাজার থেকে অনেক বেশি দাম দিয়ে বীজ-চারা কিনে জমি রোপন করতে হচ্ছে। তাছাড়াও বাজারে বীজ-চারা কিনে নানা রকমের সমস্যা দেখা যায়। তবে অনেক কৃষক আছে যাদের নিজের বীজতলা নেই তারা বাজারের চারার উপরে নির্ভরশীল তাদের জন্য খুব কষ্টসাধ্য হয়েছে চারা ক্রয় করা।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর হাটে বীজ-চারা ক্রয় করতে আসা কৃষক রেজাউল করিম বলেন, সময়মতো বোরো বীজ বপনের জন্য আমাদের নিজস্ব জায়গা-জমি না থাকায় প্রতিবারের ন্যায় এবারও হাটে চারা ক্রয় করতে এসেছি। কিন্তু অন্যবারের চেয়ে তুলনামূলক এবার দাম অনেক বেশি। আর চারাগুলো তেমন ভালো না। মানসম্মত চারা পছন্দ না হওয়ায় আজ চারা কেনা হলো। সময় মতো চারা না পাওয়ায় এছর বোরো রোপন করাই বিলম্ব হয়েছে অনেকটা।

সাঘাটা উপজেলার কৃষক মজনু মিয়া বলেন, দেশে যে সমস্যা চলতেছে এর মধ্যে যদি তৈল, সার ও কীটনাশকের দামে বৃদ্ধি না পায় আর প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হয় তাহলে হয়তো আশানুরুপ ফসল ফলানো সম্ভব হবে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৪’শ ৭৫ হেক্টর জমিতে। এসব জমির মধ্যে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের ধানের চারা রোপন করা হচ্ছে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আ.কা মো. রুহুল আমীন বলেন, কৃষকদের সারি করে চারা লাগানো, কয়েক দিনের মধ্যেই ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার এবং কঞ্চি পুতে দেয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে ওই সমস্ত কঞ্চিতে পাখি বসে জমির ক্ষতিকর পোকা নিধন করতে পারে। ভালোভাবে পরিচর্যা, কম মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ ও কিভাবে চাষাবাদ করলে অধিক ফলন পাওয়া যায় এসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কমেন্টস