মৃত্যুঞ্জয়ী সেই শিশুটি বেঁচে আছে

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৮

খায়রুল বাশার-

বাকপ্রতিবন্ধি মুক্তার সন্তান মোস্তাকিম। গত ৩১ জানুয়ারি বুধবার যাত্রাবাড়ী শনির আখড়ার শেখদি এলাকায় হিজড়াদের টাকা না দেয়ায় পানিতে চুবিয়ে রাখে ১৫ দিনের বাচ্চা শিশুকে। পরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয় ‘শিশুটি মারা গেছে’। তবে গতকাল ৩ ফেব্রুয়ারী শনিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।

শনির আখড়ার শেখদি এলাকায় উক্ত বাসা খোঁজার জন্য এলাকাবাসীকে প্রশ্ন করতেই সবাই বলে ‘হ’ ‘হিজলারা বাচ্চাটাকে পানিতে চুবাইয়া মাইরালাইছে’।

‘কেন মারছে?’ জানতে চাইলে বলে, নতুন বাচ্চা হইছে টাকা চাইছে টাকা দেই নাই তাই মাইরালাইছে।

মিল্লাত মুক্তা সেই দম্পতির বাসায় গিয়ে শোনা গেল শিশুটি বেঁচে আছে। মুক্তার খালা রাফিয়া বেগম জানায়, বাবু এখন সুস্থ্য আছে। রুমে ঘুমাইতাছে। বাসায় উৎসুক জনতার ভিড় ছিল অনেক।

শিশু মোস্তাকিম (গতকাল ৩রা ফেব্রুয়ারি তোলা ছবি)

মুক্তার খালা রাফিয়া বেগম বলেন, বাবু হওয়ার ১০ দিন পরেই তারা(হিজড়ারা) আইসা ৫ হাজার টাকা চাইছে। আমরা কইছি এখন না পরে আসো। তাদের বললাম শুক্রবার আইস। তারা রাজি ও হইছে কিন্তু হিজলারা বুধবার দুপুর বেলা আসে। আমার বোনের মেয়ে মুক্তা কথা বলতে পারে না। হিজলারা যখন আসে তখন আমরা বাসায় ঘুমাইতাছি।

মুক্তা আমাদের ইশারায় কইছে যে ‘আইসাই ওর কাছে টাকা চাইছে ৫ হাজার ও ইশারায় বুজাইছে আমার কাছে নাই অন্যদের ডাকি তবে ওরা কথা না শুইনা মুক্তারে থাপ্পর দিয়া ওর হাত আর মুখ বাইধা ফেলে। তারপর বাবুকে নিয়া বাথরুমে বালতিতে চুবাইয়া রেখে চলে যায়। মুক্তা ২ তলা থেকে নেমে চিৎকার করে। বাবুরে কোপ দিছে পরে আমরা সবাই উপরে জাইয়া দেখি বাবু পানির বালতিতে পানি খাইতাছে। এর মধ্যে প্রায়ই ১০ থেকে ১৫ মিনিট বাথরুমে পানির বালতিতে ছিল বাবু। ‘সেইফ এইড’ নামক হাসপাতালে নিয়ে যায় শিশু মোস্তাকিমকে। তারপর সেখান থেকে আবার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। আশঙ্কামুক্ত হওয়ার পর শিশু মোস্তাকিম এখন বাসায়।

এ ব্যাপারে কোন মামলা হইছে কি না জানতে চাইলে মোস্তাকিম এর নানা মনিরুজ্জুমান জানান তিনি নিজে বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করে। মামলার তদন্ত অফিসার উপ-পরিদর্শক নূর আলি।

উপ-পরিদর্শক নূর আলির কাছে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, অজ্ঞাতনামা করে মনিরুজ্জামান মামলা দায়ের করে। একজন আসামি গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন)রাহাত খান জানান, ঘটনাটি আসলেই অত্যন্ত দুঃখজনক এটা মানবিক বিষয়।

তিনি আরও জানান, মূলত হিজড়ারা রা আমাদের কাছে একজনকে ধরে নিয়ে এসেছে। তার নাম ঝিনুক আমরা খোজ নিয়ে দেখি যে তার নামে আগেও মামলা আছে। তার তদন্ত চলছে।

স্থানীয় হিজড়া সর্দার মৌসুমির কাছে এই ব্যাপারে জানতে চাওয়ার জন্য তার বাসায় গেলেও তাকে বাসায় খুজে পাওয়া যায়নি।

কমেন্টস