ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যা করে রক্তে দিয়ে নাম লিখল ধর্ষক!

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মোনালিসার হত্যার রহস্য প্রাথমিকভাবে উদঘাটন করতে পেরেছে পুলিশ। তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা শেষে লাশ ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে জানান তারা। ঘাতক মোনালিসার রক্ত দিয়ে পাশের বাড়ির একটি দেয়ালে তার নাম লিখে যায়।

এ ঘটনায় আজ শনিবার বিকেলে মোনালিসার বাবা শাহীন বেপারী বাদী হয়ে পাশের বাড়ির ইকবাল হোসেনের ছেলে দুবাই প্রবাসী সাইদের (৩০) বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। সাইদ ঘটনার পর তার স্ত্রী ইভাকে (২৫) একই এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে রেখে আত্মগোপন করেছে।

মোনালিসার বাবা জানান যায়, মোনালিসা স্থানীয় উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। আমি দুই সন্তানকে বাসায় রেখে শুক্রবার সকালে নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি যাই। সন্ধ্যার সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে আমার বাড়ির ভাড়াটিয়া রবতন বেগম ফোন করে জানায়, সাইদ আমার ঘরে প্রবেশ করেছে এবং কিছুক্ষণ পর বের হয়ে গেছে। মোবাইলটি নিয়ে মোনালিসাকে দাও বললে ওই সময় রবতন বেগম আমার ঘরে গিয়ে মোনালিসাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে বলে আমাকে জানায়।

মোনালিসার বাবা শাহীন বেপারী বলেন, এর আগে সাইদ আমার ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় রবতন বেগম জিজ্ঞাস করলে তাকে হুমকি দিয়ে চলে যায় এবং মাঠে খেলার সময় আমার ছেলে শাহেদকে বলে তোমার বোন তোমাকে ডাকছে বাসায় যাও। আমার ছেলে বাসায় এসে ঘরের দরজা খুলে রবতন বেগমসহ আশপাশের লোকজনকে নিয়ে ফ্যানে ঝুলন্ত মোনালিসাকে নামিয়ে শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, মোনালিসাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘাতক মোনালিসার রক্ত দিয়ে পাশের বাড়ির একটি দেয়ালে তার নাম লিখে গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘাতক সাইদ ঘটনার পরপরই তার স্ত্রী ইভাকে একই এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে রেখে আত্মগোপন করেছে। তাকে গ্রেফতার করা হলে এবং ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। সাইদকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে।

উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ন কবীর রতন বলেন, মোনালিসা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিল। তার এই মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারি না। হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার ও ন্যায়বিচার চাই।

কমেন্টস