Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

৮ ফেব্রুয়ারি কী হতে পারে?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৩:১২ PM আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৩:১২ PM

bdmorning Image Preview


আরিফ চৌধুরী শুভ।।

৮ ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে জল্পনা কল্পনা অনেকেরই। সময় যত গড়ায় কল্পনা ততই জল্পনার জন্ম দিচ্ছে। সবার মুখে এখন একই প্রশ্ন ৮ ফেব্রুয়ারি কী হতে পারে? অনেকেরই একটি ক্ষীণ আশা যে হয়তো তেমন কিছু ঘটবে না।

প্রায় চার বছর বিচারিক কার্যক্রম চলার পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে টানটান উত্তেজনার কমতি নেই। কারণ এই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অন্যতম আসামি। এ জন্যই আরো বাড়তি কৌতূহলে সবারই প্রশ্ন তাহলে ৮ ফেব্রুয়ারি কী হতে পারে?

এ মামলার রায় সামনে রেখে সরকার ও বিরোধী দল বিএনপি এখন মুখোমুখি অবস্থানে বহুদিন আগ থেকেই। গত মঙ্গলবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির একটি মামলায় হাজিরা শেষে খালেদা জিয়া আদালত থেকে ফেরার পথে পুলিশের ওপর হামলা ও প্রিজন ভ্যান থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বিএনপির কয়েক শ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়ও রয়েছেন।

রিমান্ডে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত।  পুলিশের ভাষায়, যাঁরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছেন, তাঁদেরই গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। তবে শুধু হামলাকারীই নয়, শত শত নেতা-কর্মীকেও পাকড়াও করা হচ্ছে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে।

তবে সরকারের সরল বক্তব্যের দায়ে কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।অনেকের ধারণা বিএনপির যে বড় জামায়েতের চিন্তা ছিল ৮ ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে সেই বার্তায় বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত থেকেও বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তারের মহড়া চালানো হচ্ছে সারাদেশে। বড়সড় জমায়েত নিয়ে খালেদা জিয়া আদালতে যাবেন মামলার রায় শুনতে এটা আনুষ্ঠানিক কোনো জমায়েতের পক্ষে সরকার না। তাঁর গাড়ি যেই পথে যাবে, সেই পথে দলের নেতা-কর্মীরাও থাকবেন। কিন্তু মঙ্গলবারের ঘটনার পর সরকারের লাগাতার গ্রেপ্তার অভিযানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

সরকারের অভিযান মোকাবিলায় বিএনপি কী কৌশল নেয়, সেটা দেখার বিষয়। তারা কি সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত হবে, নাকি এক পা এগিয়ে দুই পা পেছানোর’ নীতি অনুসরণ করবে?  মঙ্গলবারের ঘটনায় বিএনপির নেতারাও অনেকটা হতভম্ব। তাঁরা মনে করেন, সেদিনের ঘটনা ছিল সরকারের ফাঁদ, দলের কিছু কর্মী না বুঝে তাতে পা দিয়েছেন। এ অবস্থায় বিএনপি ৮ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘাতে যেতে চায় না।

দলের নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, মামলার রায় যা-ই হোক না কেন, মামলাটি যেভাবে প্রচারিত হয়েছে, রায় ঘোষণার আগেই সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে যেভাবে খালেদা জিয়াকে গালমন্দ করা হচ্ছে, তাতে রাজনৈতিকভাবে বিএনপিই লাভবান হবে।

হোটেল লা মেরিডিয়ানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ৭০০ জন আমন্ত্রিত হয়েছেন। এই বৈঠকে তৃণমূলের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় ঠিক করার কথা। ২০১৭ সালের মার্চে কাউন্সিলের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হচ্ছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় নিয়ে বিএনপি যাতে নিজেদের ‘শক্তি প্রদর্শন’ করতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকাতে সরকার ইতিমধ্যে সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছেন। নতুন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, ‘অরাজকতা হলে মানুষের জানমাল রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেবে পুলিশ।’

প্রতিবার সরকার জননিরাপত্তা রক্ষার নামে বিরোধী দলের (বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বিএনপি) কর্মসূচি মোকাবিলায় সবকিছু বন্ধ করে দেবে এবং সাধারণ মানুষ অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হবে, এটি চলতে পারে না। আওয়ামী লীগ সরকার নিজেকে ডিজিটাল দাবি করছে আর বিরোধী দলকে মোকাবিলায় সেকেলে অ্যানালগ অস্ত্র ব্যবহার করে চলেছে। মাননীয় ডিজিটাল মন্ত্রী বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলার একটি ডিজিটাল পদ্ধতি উদ্ভাবন করলে দেশবাসী উপকৃত হবে।

আবার এক দশকের বেশি সময় ধরে রাস্তায় থাকা বিএনপিকেও বুঝতে হবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে কিংবা প্রিজন ভ্যান থেকে আসামি ছিনিয়ে নিলেই আন্দোলন চাঙা হয় না।

বিএনপির নেতাদের ধারণা, সরকার এই মামলাকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, যাতে বিএনপি আগামী নির্বাচন বর্জন করে। কিন্তু এবার তাঁরা ২০১৪ সালের মতো ভুল করতে চান না। বিএনপির কোনো কোনো নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আর ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেওয়া হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও মনে করেন, একটি মামলার রায়ে বিএনপির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে না। আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করা উচিত। অন্যদিকে সরকারেরও উচিত হবে না ৮ ফেব্রুয়ারির রায়কে কেন্দ্র করে এমন অবস্থা তৈরি করা, যাতে ঢাকার জনজীবন অচল হয়ে পড়ে।

Bootstrap Image Preview