পোল্ট্রি খামারে স্বাবলম্বী লিটন 

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১৭, ২০১৮

এম.ইমাম হোসেন, মীরসরাই প্রতিনিধিঃ

বিদ্রেহী কবি কাজী নজসরুল ইসলামের কবিতা ‘ হে দারিদ্র তুমি মোরে করেছ মহান, তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সন্মান কন্টক-মুকুট শোভা, দিয়াছ তাপস অসস্কোচন প্রকাশের দুরন্ত সাহস…….’ কবির কবিতার মত দারিদ্রকে জয় করে লিটন আজ স্বাবলম্বী। পুরো অঞ্চলজুড়ে তার স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

যখন দারিদ্রের নিষ্ঠুর কষাঘাতে জর্জরিত লিটন দিশেহারা ঠিক তখন নিজের নিজের পায়ে দাঁড়াতে গিয়ে আত্মকর্মসংস্থান তৈরী করতে ১৭ বছর আগেই শুরু করেন পোল্টি ব্যবসায়। সে আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। সে আজ নিজে নিজের কর্মসংস্থান করাই অনেকের কাছে উদাহরণ। বাবা ছিলেন একজন কৃষক। কৃষি কাজের সাথে জড়িত ছিলেন নুরুল করিম লিটন। তিনি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ১৩নং মায়ানী ইউনিয়নের পশ্চিম মায়ানী গ্রামে মোঃ হানিফ এর তৃতীয় পুত্র।

২০০০ সালে লেয়ার জাতের ২’শ ৫০টি মুরগী পালন শুরু করেন। সেই থেকে আর থেমে থাকেননি নুরুল করিম লিটন। মুরগী পালন করে তিনি সারা বছরের পারিবারিক মুরগীর চাহিদা মিটানোর পর মুরগী বিক্রি করে বাড়তি কিছু আয় করে লাভের মুখ দেখেন। সে থেকে তিনি পোল্ট্রি ব্যবসাকে পেশা হিসেবে বেচে নেন। শুরু করেন পুনঃ উদ্যমে ব্যবসা শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি খামারকে প্রসারিত করতে থাকেন। বর্তমানে খামারে প্রায় ১৮ হাজার মুরগী রয়েছে এর মধ্যে ৫ হাজার সোনালী ও ১৩ হাজার বয়লার। লিটন বলেন, বর্তমানে খামারে ১১ জন নিয়মিত শ্রমিক কাজ করে। ২৫০টি মুরগী দিয়ে শুরু করে আজ ৪টি খামারে মালিক।

ইতোমধ্যে এলাকার বেকার যুবকদের নিজ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। মুরগীর বিষ্ঠা দিয়ে পরিবেশ বান্ধব একটি বড় মাপের বায়োগ্যাস   প্ল্যান্ট   করেছেন। এতে নিজের পরিবারের রান্নার কাজ সমাধা হবে। এতে কিছুটা হলেও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, আমার আর্থিক অবস্থা এবং পোল্টি খামার দেখে এলাকার অনেক বেকার ছেলে পোল্ট্রি খামার করে তারাও আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সহজ শর্তে কোন ব্যাংক-বীমা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঋণ প্রদান করলে আগামীতে একটি হ্যাচারী ও বড় মাপের গবাদী পশুর খামার স্থাপন করতে চাই। চাকুরী নামের সোনার হরিণের পেছনে না ঘুরে পোল্ট্রি খামার করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। এতে বেকারত্ব ঘুচবে এবং আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়া যায়। তিনি বেকার যুবকদের পোল্ট্রি খামার করার জন্য আহ্বান জানান।

মীরসরাই উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শ্যামল চন্দ্র পোদ্দার বলেন,  নুরুল করিম লিটন পোল্ট্রি খামার করে সে এখন মীরসরাইয়ের একজন মডেল খামারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। নুরুল করিম বেকারত্বের সাথে লড়াই-সংগ্রামের মধ্যে পোল্ট্রি খামার করে মীরসরাই মধ্যে একজন বড় ও সফল পোল্ট্রি খামারী। লিটন পোল্ট্রি খামার করে কিছুটা হলেও দেশের মুরগী ও ডিমের চাহিদা পূরণ করছেন। সেই সঙ্গে পুষ্টির যোগানও দিচ্ছেন। লিটন সঠিক পদ্ধতিতে পোল্ট্রি খামার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার দেখা দেখি ওই এলাকার যুবকদের মধ্যে পোল্ট্রি খামারের প্রতিযোগিতা চলে এসেছে। বেকারত্বের কষাঘাত থেকে রক্ষা পেতে নুরুল করিম লিটন লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পোল্ট্রি খামার করে একজন সফল পোল্ট্রি খামারী হিসেবে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মীর কাশেম জানান, লিটন দারিদ্রাটা আশিবার্দ। কারণ প্রতিনিয়ত সে দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে জীবন যুদ্ধে একজন বিজয় সৈনিক হিসেবে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে। এটা ভাবতে ভালো লাগে।

স্থানীয় মুরগী ব্যবসায়ী রিপন লিটন সম্পর্কে বলেন, পরিশ্রম সৌভাগের প্রসুতি এই কথাটির যথার্থ প্রমাণ করেছেন লিটন।

কমেন্টস