টাঙ্গাইলের ঋণের চাপে যুবকের আত্মহত্যা

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১২, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্কঃ

বিডিমরটাঙ্গাইলের মধুপুরে ঋণের চাপে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে এক যুবক। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার চাপড়ি-গারোবাজার সড়কের লোম্বাপুড়া খালপাড়ের জঙ্গল থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তার নাম শফিকুল ইসলাম। সে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বালিয়ান গ্রামের মো.শহিদুল ইসলামের ছেলে।

 আজ শুক্রবার সরেজমিনে মহিষমারা গ্রামে গিয়ে জানা যায়, শফিকুল বেশ কয়েক বছর আগে স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে নিয়ে মহিষমারা গ্রামের খালা শাশুড়ী নসিরনের বাড়িতে ছোট একটি ঘর তোলে পুরাতন ব্যাটারী ক্রয়-বিক্রয় করে সংসার চালাত। তার ঘরে সিয়াম নামের ৭ বছরের এবং ৫১ দিন বয়সের দু’টি ছেলে রয়েছে।

কিন্তু এরই মধ্যে শফিকুল ৪/৫ লাখ টাকা ঋণি হয়ে পড়েন। শাশুড়ী আসমা বেগম ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধও করে দেন। তারপরও ২/৩ লাখ টাকা ঋণের চাপে গত মঙ্গলবার বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর গত বৃহস্পতিবার বাড়ি থেতে ৫শ গজ দুরে জঙ্গলের মধ্যে ডুমুড়গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। শফিকুলের পরিবার জানায়, সে হয়তো মঙ্গলবারই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে কিন্তু খোঁজ পাওয়া গেছে বৃহস্পতিবার।

এদিকে শফিকুলের মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ৫১ দিনের শিশুছেলে সোহানকে নিয়ে স্ত্রী মরিয়ম খাতুন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শফিকুলের মৃত্যুর পর দুটি সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সে । এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মরিয়ম।
মরিয়ম জানায়, এতটাকা ঋণ করেছিল, আমি জানি না, মাঝে মাঝে তাকে খুব হতাশাগ্রস্ত দেখতাম। জানতে চাইলে কিছু বলত না। আমি এখন অবুঝ শিশু সন্তান দুটো নিয়ে কী করব, কোথায় যাবো?

শফিকুলের শাশুড়ী আসমা বেগম জানান, মেয়ের সুখের কথা ভেবে অনেক কষ্ট করে জামাইয়ের ২ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছিলাম। বাকী ঋণের কথা আমরা জানতাম না।
ময়নাতদন্ত শেষে গত শুক্রবার বিকালে শফিকুলের লাম মহিষমারা গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মধুপুর থানার ডিউটি অফিসার এসআই ফখরুল ইসলাম জানান, তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে গত শুক্রবার বিকালে শফিকুলের লাম মহিষমারা গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

কমেন্টস