বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শ্যামনগর ব্লাড ডোনারস ক্লাবের বিনামূল্যে রক্তদান সপ্তাহ পালন

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭

আহমেদ জুবায়ের প্রাপণ, ব্রাহ্মনবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ

শ্যামগ্রাম ব্লাড ডোনারস ক্লাবের উদ্যোগে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার পাঁচটি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হল বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন সপ্তাহ এবং র্গভবতী মায়ের সচতেনতামূলক ক্যাম্পেইন । ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হল শিশু জন্মের সময় একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য রক্তের প্রয়োজন হতে পারে এবং র্গভবতীর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী ও পরিচিত শত শত মানুষ থাকে যারা খুব সহজেই রক্তদান করতে পারেন, এই সচেতনতা সৃষ্টি করা।

শ্যামগ্রাম ব্লাড ডোনারস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রুহুল আমনি আবির চৌধুরী তাঁর কাছে রক্ত দান সর্ম্পকে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, রক্ত কৃত্রিমভাবে ল্যাবরেটিরীতে তৈরি করা সম্ভব নয়। র্অথাৎ একটি অসুস্থ মানুষের জরুরী প্রয়োজনে কেবলমাত্র অন্য একজন সুস্থ্য মানুষই রক্তদান করতে পারবে।তাই সকল সুস্থ্য মানুষের রক্তদানে এগিয়ে আসা একটি নৈতিক দায়িত্ব হওয়া উচতি।রক্তদান আপনার শরীরের সুস্থ্যতাকে নিশ্চিত করে। কারণ রক্তদানের সময় হিপাটাইটিস বি সিফিলিস, ম্যালরেয়িা এবং এইডস এই ৫টি রোগের পরীক্ষা করা হয়ে থাক। আপনি যদি নিয়মিত রক্ত দান করে থাকেন তাহলে আপনার এই পাঁচটি পরীক্ষা হয়ে থাকবে।প্রতি চার মাস পর পর মানব দেহের রক্ত কণিকা নতুনভাবে তৈরি হয়, আর পুরাতন রক্ত কণিকা দেহের থেকে বিভিন্নভাবে বেরিয়ে যায়। আর আপনার এই অপ্রয়োজনীয় রক্ত একজন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে বড় ভূমকিা রাখছে। রক্তদানের পর আপনি রক্তশূন্যতায় মারা যাবেন না। কারণ রক্তদানের পরও প্রয়োজনীয় রক্ত বা অনেক সময় এর থেকে বেশী পরিমান রক্ত আপনার শরীরে থেতে যায়। তাছাড়া রক্তদান করলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকগুণ বেড়ে যায়।

এ ছাড়া তিনি আরো বলেন, র্গভবতী মায়েদের সচেতন করা আমাদের র্কতব্য। যদিও র্বতমানে র্গভবতী মায়েরা নিজেরাই অনেকটাই সচেতন।র্গভকালীন সময়েও মায়েদের রক্ত প্রয়োজন হতে পারে।প্রধান যে দুটি কারণে রক্ত প্রয়োজন হতে পারে তার একটি হল র্গভফুল বা প্লাসেন্টার নিচে জরায়ুর মুখের কাছাকাছি থাকে যাকে বলা হয় প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, যাদের আগে জরায়ুতে কোন ধরনের অপারেশন যেমন-ডিএন্ডসি, সিজারিয়ান অপারেশন বা যাদের যমজ বাচ্চা হয়, তাদের হওয়ার আশঙ্কা বেশী থাকে।

অন্যটি হল র্গভফুল জরায়ুর স্বাভাবিক অবস্থা থাকে একটু আলগা হয়ে যাওয়া। প্রেসার বেশী থাকলে বা কোন কারণে পেটে আঘাত পড়লে এরকম হতে পারে।

‘আপনার প্রতি ফোঁটা রক্ত মানবতার জন্য সবচেয়ে সেরা উপহার’ স্লোগানকে বাস্তব রূপ দিতে ১২ সপ্টেম্বের ২০১৬ সালে ক্লাবটি তাদের যাত্রা শরু করে।  ফেইসবুক গ্রুপে সংগঠনটিতে রয়েছে ৩০০ জন নিয়মিত রক্তদাতা। ফেইসবুক গ্রুপে রয়েছে ৬ জন এডমিন এবং সহ-এডমিন আছে আরও ৩ জন।এরা যে কারো রক্তের প্রয়োজনে সাথে সাথে পোষ্ট দিয়ে শুরু করেন ডোনারের সন্ধান।

রক্তদান করা ছাড়াও অনলাইন ভিত্তিক এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্লাড গ্রুপিং, সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, শীতবস্ত্র বিতরণ, অসহায় রোগীদের সাহায্য করা ইত্যাদি কাজ করে থাকে।

 

কমেন্টস