গাড়ির কাছে নাদিরা হিজড়ার পরাজয়

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২২, ২০১৭

মশিউর জারিফ-

বহুল আলোচিত রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসন ৭ (১৮,২০ ও ২২ ওয়ার্ড) এ গাড়ির কাছে পরাজয় বরণ করেছেন হিজড়া নাদিরা খানম। তিনিই দেশের ইতিহাসে কোনো সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রথম হিজড়া প্রার্থী।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত পৌনে বারোটায় সময় বে-সরকারিভাবে বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন রসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার। এদিকে ৩৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেখান  থেকেই জানা যায় এ তথ্য।

সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ৭ ১৮,২০,২২ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই ওয়ার্ডে গাড়ি প্রতীক নিয়ে ফেরদৌসী বেগম ১৩৮৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আর নাদিরা খানম মোবাইল প্রতীক নিয়ে ৭৫৫১ পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে নাদিরা খানম বিডিমর্নিং-কে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে। এ নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোনো সমস্যা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না নির্বাচনী প্রচারণার সময় আমার কোন সমস্যা হয় নি। কাজ করতে গিয়ে সবার অনেক সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছি। আমি অনেক সাচ্ছ্যন্দে কাজ করেছি।

প্রসঙ্গত, নগরীর ২২ ওয়ার্ডের বালাপাড়ায় বসবাস করেন নাদিরা। ১৮ বছর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে স্নাতকোত্তর পাস করেন তিনি। আদমজী জুট মিলসের প্রোডাকশন ম্যানেজার সিরাজুল ইসলামের চার সন্তানের মধ্যে নাদিরা ‍দ্বিতীয়। তারা থাকতেন দিনাজপুরের নিউ টাউনের নিজ বাড়িতে।

নাদিরা বলেন, বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ১৯৯১ সালে এসএসসি পাস করেছি। ছোট বোনের বিয়ের কথা পাকাপাকি। হঠাৎ বরপক্ষ থেকে কথা উঠল-মেয়ের বড় বোন তো ‘হিজড়া’। তার ছোট বোন বিয়ে করায় যদি উত্তরসূরিও তাই হয়! বিয়েটা তাই ভেঙ্গেই গেল। বাবা আমার মাকে চাপ দিতে থাকলেন। এই সন্তানের জন্য কি আরেক সন্তানের জীবন নষ্ট হবে? একে বাড়ি থেকে বের করে দাও। মায়ের কষ্ট দেখে আমি নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে যাই দিনাজুরের পার্বতীপুর মামার বাড়িতে।

মামার এক বন্ধু ছিলেন নিঃসন্তান। তিনিই আমাকে সন্তান হিসেবে লালন-পালনের দায়িত্ব নিলেন। দিনাজপুর আদর্শ ডিগ্রি কলেজ থেকেই বিএ পাস করার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে এমএম পূর্বভাগে ভর্তি হই। রাজশাহীতে নাদিরা ‘পালক বাবার’ সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশুনা শেষ করি ১৯৯৯ সালে।

নাদিরা বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনুদান নিয়ে বর্তমানে ৩৭০ জন তৃতীয় লিঙ্গের উন্নয়নে কাজ করছি। তাদের নিয়ে কাজ করতে করতেই সমাজের মূল ধারায় কাজ করার তাগিদ অনুভব করি। সেই থেকেই চিন্তা হলো জনপ্রতিনিধি হওয়ার। আর এ চিন্তা থেকেই সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছি।

প্রসঙ্গত, এর আগে যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভা এবং সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভাতেও সংরক্ষিত নারী আসনে তৃতীয় লিঙ্গের দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বলে জানান নাদিরা খানম। তবে কোন সিটি করপোরেশনে তিনিই প্রথম প্রার্থী।

কমেন্টস