মাদারীপুরে আদালত চত্বর থেকে পুলিশের সহায়তায় তরুণী অপহরণ!

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ৭, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

মাদারীপুরে অপহরণ মামলায় জবানবন্দি দিতে এসে আদালত চত্বর থেকে আবারও অপহরণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। আর এ অপহরণে একজন পুলিশ কর্মকর্তা সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী আদালতের একাধিক সূত্র জানায়, সকাল নয়টা থেকে চরমুগরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শাহাদাৎ হোসেন তাঁর ফাঁড়ির কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। পরে বিকেলে বের হওয়ার সময় আদালত চত্বর থেকে কয়েকজন একটি মাইক্রোবাসে জোর করে তুলে নেয় ওই তরুণীকে। এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে পুলিশ ওই তরুণীর মা ও কাকাকে মারধর করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন ও আসামি হাবিবুর রহমানের বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তিনি অপহরণে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ তরুণীর পরিবারের।

ওই তরুণীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চন্দিদাসদী এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে আবিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ওই তরুণীর। একপর্যায়ে পরিবারের চাপে হাবিবুরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তরুণী। পরে গত ২৫ নভেম্বর কলেজে যাওয়ার পথে ওই তরুণীকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার পর রাজৈর থানায় হাবিবুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে একটি অপহরণ মামলা হয়। এ মামলায় মঙ্গলবার আদালতে জবানবন্দি দিতে আসেন তরুণী। জবানবন্দি দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আবারও তাঁকে অপহরণ করা হয়।

তরুণীর মা জানান, ‘আমার মেয়েকে ওরা জোর করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে মামলা করায় চাপে পড়ে ওরা আদালতে হাজির হয়। এ সময় আমরা আমাদের মেয়েকে নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় আমি বিচার চাই। আমার মেয়েকে ফেরত চাই।’

আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে চরমুগরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমাকে সদর থানার ওসি ফোন করে আদালতে আসতে বলেন। তাই এখানে আসি। এসে জানতে পারি, এক তরুণী আদালতে জবানবন্দি শেষে নিজ জিম্মায় বাসায় যেতে ভয় পাচ্ছেন। তখন তাঁকে পুলিশের সহযোগিতায় মস্তফাপুর পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া হয়।’

ওই তরুণীর বাড়ি মস্তফাপুর থেকে আরও ১৮ কিলোমিটার দূরে রাজৈরে। তাহলে তাঁকে মাঝপথে মস্তফাপুর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হলো কেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘বাসায় ফিরতে ভয় পাচ্ছিলেন। তাই তাঁকে কিছু পথ এগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি কীভাবে যাবেন সেটা তাঁর ব্যাপার। তবে আমার সামনে তাঁকে কেউ জোর করে তুলে নিতে আসেনি।’

কমেন্টস